

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রাম নগরীতে জাতীয় ছাত্রশক্তির সমাবেশ ও গণমিছিল কভার করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, শারীরিক হেনস্তা এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মাহাতির বিরুদ্ধে।
সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামে ষোলশহর স্টেশন থেকে তাদের পূর্ব ঘোষিত মিছিল ও কর্মসূচি কাজীর দেউরি এলাকায় পৌঁছালে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, জাতীয় ছাত্রশক্তির সমাবেশ ও গণমিছিলের ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন টাইমস টুডের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি আরাফাত হোসেন। এ সময় কয়েকজন কর্মী তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন এবং প্রেস কার্ড দেখানোর প্রস্তুতি নেন। তবে এর আগেই আব্দুল্লাহ আল মাহাতির তার ঘাড় চেপে ধরেন এবং ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরাফাত হোসেন বলেন, “আমি সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
এ ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে এনপিবি নিউজের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি সাহিদুল ইসলাম মাসুম, টাইমস টুডের প্রতিবেদক আরাফাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম প্রতিদিনের রিপোর্টার আব্দুর রহমান ইমন অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মাহাতির সঙ্গে কথা বলতে গেলে সেখানেও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে।
চট্টগ্রাম প্রতিদিনের প্রতিবেদক আব্দুর রহমান ইমন অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তাকে ‘তুই’ সম্বোধন করে অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলা হয়। একই সঙ্গে উপস্থিত অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গেও রূঢ় আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মাহাতির বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযুক্ত করা হবে।
এ ঘটনায় চট্টগ্রামের সাংবাদিক মহলের একাধিক সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, গণতান্ত্রিক কর্মসূচি কভার করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের দায়িত্ব। সাংবাদিকদের সঙ্গে শারীরিক বা মৌখিক দুর্ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সাংবাদিক নেতারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।