

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সংগঠন সেনাদল এর উদ্যোগে রাজধানীর ভাষানটেক বিএনপি অফিসে এক নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এবং ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।
আব্দুস সালাম বলেন, তারেক রহমান নির্বাচিত হলে দেশে বেকারত্ব থাকবে না, দারিদ্র দূর হবে এবং মানুষ না খেয়ে থাকবে না। এবারের নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনারা নির্বাচনে ভুল করেন তাহলে দেশ অনেক দূর পিছিয়ে যাবে। এদেশকে করদ রাজ্য বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। সেটা কি করদ রাজ্য বানানোর জন্য? মোটেই না। এখন আপনারা ঠিক করবেন দেশ পরাধীন করবেন না স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখবেন। নির্বাচনের মাধ্যমে ঠিক হবে এদেশ কারা পরিচালনা করবে।
তিনি বলেন, যারা অপপ্রচার চালায় নির্বাচন হবে কিনা তারা দেশের ভালো চায় না। আর যারা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী তারা কিছুদিন আগেও আওয়ামী সরকারের সাথে সম্পর্ক রেখে চলেছে। গোপনে তাদের সহযোগিতা করেছে। একটা গোষ্ঠী সেই জামাতকে বিএনপি'র প্রতিদ্বন্দ্বী বানানোর চেষ্টা করছে। অথচ বিগত দিনে তাদের অবস্থান বিএনপির ধারেকাছেও ছিল না। তারা কোনদিন ঢাকায় একটা আসনেও জয়লাভ করেনি। বিএনপির সাথে যতদিন যুক্ত ছিল ততদিন তারা ২০ টির কাছাকাছি আসন পেয়েছে। যখন বিএনপি থেকে সরে গিয়ে নির্বাচন করেছে তখন মাত্র দুইটি আসন পেয়েছে। এমন দলের সাথে বিএনপির কি কোন তুলনা হতে পারে? কখনোই তুলনা চলে না।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর আমাদের নেতাকর্মীরা কত রকম নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েছে, গুম খুনের শিকার হয় জীবন শেষ করে দিয়েছে কিন্তু তারা কখনো আপোষ করেনি। যেমন আপস করেননি বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আমাদের নেতা তারেক রহমানও আপস করবেন না।
তিনি প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে বলেন যারা স্বাধীনতা চায়নি বরং হাত পেতে বেঁচে থাকতে চেয়েছে তারা আসলে দেশকে ভালোবাসে না। তাদের সাথে থেকে বিগত দিনে বিএনপির অনেক ক্ষতি হয়েছে। তার জন্য বিএনপিকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। রাজাকার তকমা সহ্য করতে হয়েছে। তারপরও ৫ আগস্টের পর এমন কি হলো যে তারা বিএনপির বিপক্ষে চলে যায় এবং বিএনপি'র বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়।
তারা দেশ শাসনের সুযোগ চায়। আমার ধারণা দেশ শাসনের সুযোগ পেলে তারা ইহুদিদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবে। তিনি উপস্থিত বিএনপি নেতা কর্মীর উদ্দেশ্যে বলেন আমরা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা চাই। আপনারা ঘরে ঘরে যাবেন। উঠান বৈঠক করবেন।অফিসে বসে বক্তব্য রাখার চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়াটা বেশি দরকার। সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে তাদের এক একটি ভোটের অনেক মূল্য এবং তারা যেন ধানের শীষে ভোট দেয়।
তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা কখনো রাজাকারদের সমর্থন করতে পারে না। কারণ সেনাবাহিনী গঠিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। যারা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বড় হয় তারা কি রাজাকারদের পক্ষ নিতে পারে? সবাই উত্তরে বলেন, না পারে না।
বিএনপি কখনো অন্যায়ের সাথে আপস করার দল নয়। জিয়াউর রহমান করেননি, বেগম খালেদা জিয়া করেননি। আমাদের নেতা তারেক রহমানও করবেন না।
বিগত দিনগুলোতে বারবার আমাদের বলা হয়েছে জামাত ছেড়ে আসুন। সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা তাদের কথায় সাড়া দেইনি। কারণ আমরা বেঈমানি পছন্দ করি না। অথচ তারা সামান্য সুযোগ পেয়েই আমাদের বিপক্ষে চলে গেছে।
তিনি বলেন আমরা মনে করি সংকট এখনো কাটেনি। এখনো সীমান্তের ওপারে বসে শেখ হাসিনা দেশবিরোধী বক্তব্য রাখছে। স্বৈরাচার রাজাকার যদি হাত মিলিয়ে ফেলে তাহলে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কর্নেল জগলুল আহসান, ভাষানটেক থানা বিএনপির আহবায়ক কাদের মাহমুদ, সদস্য সচিব রেজানুর সেলিম, যুগ্ম আহবায়ক আমির হোসেন, শাহরিয়ার লিটন, ৯৫ নং ওয়ার্ড সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন।
সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ারেন্ট অফিসার মতিউর রহমান, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আসাদুজ্জামান সারজেক্ট মোঃ আব্দুল বাতেন, সার্জেন্ট আব্দুল হক, কর্পোলার জমশেদ, ওয়ারেন্ট অফিসার রফিকুল ইসলাম, ওয়ারেন্ট অফিসার রওশন আলী, সৈনিক দুলাল হোসেন, যুবদল নেতা সাজ্জাদুল ইসলাম মিরাজ ও সার্জেন্ট ইমামুল হক প্রমুখ। সভা শেষে বিএনপি নেতা কর্মীগণ বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে গণসংযোগে বেরিয়ে যান।
মন্তব্য করুন

