

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত ১১ দলীয় জোটের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এখনো নিরসন হয়নি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা ঝুলে গেছে।
বিশেষ করে চাহিদার তুলনায় কম আসন পাওয়ার প্রস্তাব আসায় শেষ মুহূর্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জোটের অন্যতম প্রধান শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত চলা বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনকে ৪৫টি আসনে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও দলটি তাতে সম্মতি জানায়নি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার বেলা সোয়া দুইটায় জোটের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণার জন্য সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছিল।
তবে নাটকীয়ভাবে সেই সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়। জোট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী অনড় থাকলেও বুধবার সকালে ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম সরাসরি জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ফোন করেন।
পীর সাহেব চরমোনাইয়ের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতেই শেষ মুহূর্তে সংবাদ সম্মেলনটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার বাদ জোহর ইসলামী আন্দোলনের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম এক জরুরি বৈঠকে বসে।
বৈঠক শেষে দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে জানান যে তারা জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশ ও ইসলামের স্বার্থে ঘোষিত একবক্স নীতিতে এখনো অটল রয়েছেন। তবে জোটের শরিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে এবং দ্রুতই এর রূপরেখা পরিষ্কার হবে। জোটের আরেক প্রভাবশালী শরিক এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অব. অলি আহমদ জানিয়েছেন যে জামায়াতের পক্ষ থেকে সব দলের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করা হচ্ছে।
তবে বুধবার ১১ দলীয় জোটের আর কোনো আনুষ্ঠানিক সভার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি নিশ্চিত করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন বড় এই জোটে আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন চললেও শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে দলগুলো। এখন দেখার বিষয় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যকার এই দীর্ঘ ফোনালাপ জোটের ভবিষ্যৎ সমীকরণে কী পরিবর্তন আনে।
মন্তব্য করুন

