

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঠিক পনেরো বছর আগে, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলেছিল ফেলানী খাতুনের মৃতদেহ। সেদিন বিএসএফের গুলিতে ক্ষতবিক্ষত সেই মৃতদেহ পাঁচ ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে থাকার দৃশ্য দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তবে, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি আজও। ভারতের আদালতে এখনও ফেলানী হত্যাকাণ্ডের চলমান বিচারিক কার্যক্রম।
যে সীমান্তে ফেলানীকে মেরে ফেলা হয়েছিল, সেই সীমান্তই রক্ষা করার শপথ নিলেন তার ছোট ভাই মো. আরফান হোসেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পবিত্র কোরআনকে স্বাক্ষী রেখে বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট হিসেবে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজের (বিজিটিসিএন্ডসি) বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নেন তিনি।
সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আরফান। এসময় তিনি বলেন, আমি এখন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সৈনিক হয়েছি। আমি চাইব না, আমার বোনের মতো আরও কারোর বাবা-মা তার সন্তান হারাক। আমি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্য হয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন কোনো বোন বা মা-বাবার সন্তানকে এভাবে হত্যা না করা হয়। দেশের সীমান্ত রক্ষার্থে আমার জীবন বিপন্ন হলেও চেষ্টা করব কোনো বোন বা বাবা-মায়ের সন্তান যেন আমার বোনের মতো পাখির মতো গুলি খেয়ে হত্যার শিকার না হয়।
বড় বোন ফেলানী সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আরফান হোসেন বলেন, আমার বয়স তখন ৬-৭ বছর হবে, তখন আমার বড় বোন ফেলানীকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর থেকেই আমার মা-বাবার ইচ্ছা ছিল আমি যেন এই বাহিনীতে বা দেশের জন্য কাজ করতে পারি। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমি নিজেকে গড়ে তুলি এবং বিজিবিতে আসি।
আয়োজনের শেষে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীও খোঁজখবর নেন ফেলানীর ভাইয়ের। আরফান হোসেনের সঙ্গে কিছুক্ষণ আলাপ করেন বিজিবি প্রধান। এসময় তিনি, একজন বিজিবি সদস্য হিসবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দেন।
মন্তব্য করুন
