

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নতুন পে স্কেল ঘোষণা নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনার পর আপাতত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রচলিত নিয়মেই মহার্ঘ ভাতা পাবেন।
আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় আপাতত পে স্কেল ঘোষণা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে বেতন কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা বাড়লেও বর্তমানে চালু থাকা ভাতা ব্যবস্থাই বহাল থাকছে। তবে জাতীয় বেতন কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। বরং কমিশনকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব তৈরি করা যায়। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে, যা পরে নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন নয়।
অন্যদিকে, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বেতন কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২৫ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। বাজেটের প্রাথমিক প্রস্তাবে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পনের শতাংশ এবং দশম থেকে বিশতম গ্রেডের কর্মীদের জন্য বিশ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার কথা ছিল। যদিও পরবর্তীতে সরকার নতুন পে স্কেল প্রণয়নের দিকেই বেশি মনোযোগ দেয়।
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আগের প্রস্তাব অনুসারেই মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে। ফলে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মীরা পনের শতাংশ এবং দশম থেকে বিশতম গ্রেডের কর্মীরা বিশ শতাংশ হারে ভাতা পাবেন।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা দুই হাজার পনের সালের এক জুলাই থেকে কার্যকর অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এর আগে সপ্তম বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছিল দুই হাজার নয় সালের এক জুলাই।
সাধারণত ৫ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হলেও অষ্টম পে স্কেলের পর নয় বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এতে অনেক কর্মচারী নিজ নিজ গ্রেডের সর্বশেষ ধাপে পৌঁছে গেছেন।
এদিকে, মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে ২৩ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৫% হারে বিশেষ প্রণোদনাও চালু রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে প্রায় সম্পন্ন হবে।
মন্তব্য করুন

