শনিবার
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়ে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
expand

বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক পরিচয়ের ভিত্তিতেই দেশের সবাই সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। সবার প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এ আয়োজন করে।

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এটাই সরকারের মূলনীতি। সবার আগে বাংলাদেশ হলে প্রত্যেকের পরিচয়ও হবে ‘সবার আগে বাংলাদেশি’। ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এরপরের বিষয়।

অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে বিবেচনা করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার যে চেষ্টা ছিল, দেশের সচেতন জনগণ সেই ধারণা ও ‘কৃত্রিম মিথ’ ভেঙে দিয়েছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। জনগণই বিচারক উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ ইতোমধ্যে তাদের রায় দিয়েছে। ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র সুদৃঢ় রাখা এবং সব ধরনের ‘অসুর শক্তি’ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না। সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং সেখানে দায়িত্ব পালনকারীদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু সংবিধানের মধ্যে সাম্য ও সম্প্রীতির বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনেও তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটির পরিবর্তে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও শান্তির চর্চার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমাজে ইতিবাচক ভাষা ও চর্চা বাড়াতে হবে। এতে পারস্পরিক সহাবস্থান আরও সুন্দর ও শক্তিশালী হবে।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। এ ছাড়া বক্তব্য দেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে জন্মাষ্টমীর মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

পরে পলাশী মোড়ের ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন থেকে বর্ণাঢ্য মিছিলটি বের হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank