শনিবার
২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের আল্টিমেটাম ও কর্মসূচি ঘোষণা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা স্কেলে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করা না হলে ১ সেপ্টেম্বর থেকে গুলশান অভিমুখে পদযাত্রাসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৩টায় আয়োজিত এক প্রতিনিধি সমাবেশে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। প্রতিনিধি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী।

প্রতিনিধি সমাবেশ পরিচালনা করেন অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান উজ্জ্বল ও ১১-২০ ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মো. মাহমুদুল হাসান।

সমাবেশে বক্তারা জানান, বিগত ১১ বছর ধরে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি ১০৮ শতাংশে পৌঁছালেও ২০১৫ সালের বেতন দিয়ে ২০২৬ সালে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ওয়ারেছ আলী বলেন, পূর্ববর্তী সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকার কর্মচারীদের দাবির বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। এমনকি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারও বাজেট বরাদ্দ ও প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কিংবা কর্মচারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেনি। এ পরিস্থিতিতে কর্মচারীদের পক্ষে ৭ দফা দাবি এবং তা বাস্তবায়নে ঘোষিত কর্মসূচি উপস্থাপন করা হয়।

সাত দফা দাবি

১. ১:৪-এর ভিত্তিতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন-স্কেল ৩৫ হাজার টাকায় ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের নিমিত্তে পে-কমিশনের সুপারিশকৃত ‘বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের’ ৩১ আগস্টের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে।

২. ২০১৫ সালে পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত ৩টি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল অথবা এ ক্ষেত্রে পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জ্যেষ্ঠতা পুনর্বহাল করতে হবে।

৩. ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সব পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। এছাড়া টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদের মর্যাদা দিতে হবে।

৪. সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচ্যুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান গ্রাচ্যুইটি/আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশের স্থলে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ এবং পেনশন গ্রাচ্যুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

৫. উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান করতে হবে।

৬. ২০০৮ সালের মার্চে অর্থ মন্ত্রণালয় হতে জারীকৃত বৈষম্যমূলক আদেশের বিপরীতে দায়েরকৃত মামলা নম্বর ১৩৭/২০১৫-এর রায় অনুযায়ী উক্ত আদেশ বাতিল করতে হবে।

৭. বর্তমান বাজার মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে বিদ্যমান ভাতাদি পুনর্নির্ধারণ এবং সামরিক/আধাসামরিক বাহিনীর ন্যায় (১১-২০ গ্রেডের) কর্মচারীদের রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে হবে।

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে বেতন ও পদ বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে সচিবালয়ের ন্যায় সব সরকারি, আধাসরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করতে হবে।

আন্দোলনের কর্মসূচি

এদিকে প্রতিনিধি সমাবেশে আন্দোলনের কর্মসূচিগুলো—

১ সেপ্টেম্বর: সকাল ১০টায় নিজ নিজ দপ্তরের মূল ফটকে ৩০ মিনিট অবস্থান কর্মসূচি এবং দপ্তরপ্রধানের নিকট স্মারকলিপি প্রদান।

৬ সেপ্টেম্বর: সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ।

১ সেপ্টেম্বর–২৪ সেপ্টেম্বর: সারা দেশে বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন।

২ অক্টোবর: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সব সরকারি কর্মচারীর মহাসমাবেশ এবং সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর গুলশান কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা।

সমাবেশে ১১-২০ অধিকার ফোরাম, বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতি, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন, বিজি প্রেস, সমাজসেবা, পরিবহন ও শিক্ষা খাতসহ বিভিন্ন স্তরের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank