মঙ্গলবার
১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় ৪৪৫ ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ চিহ্নিত

এনপিবিনিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশেও বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। তবে ছোট ছোট ভূমিকম্পকে বড় ভূমিকম্পের নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এরই মধ্যে বড় ধরনের ভূমিকম্প মোকাবিলায় রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪৪৫টি ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ চিহ্নিত করেছে সরকার। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৫৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৮৯টি স্থান রয়েছে। এসব স্থান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে ঘোষণা করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এসব তথ্য জানান।

বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি

সাম্প্রতিক সময়ে জাপান, ফিলিপাইন, ভারত ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এসব ভূমিকম্পে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, রাজধানী ঢাকায় ৬ থেকে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে ব্যাপক মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। দুর্বল নির্মাণমানের ভবন ধসে পড়লে বিপুলসংখ্যক মানুষ হতাহত হতে পারেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, বাংলাদেশে ৭ থেকে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে।

তিনি জানান, অতীতে ১৮৬৯ সালে কাছাড়ে ৭ দশমিক ৫, ১৮৮৫ সালে বেঙ্গল ভূমিকম্পে ৭ দশমিক ১, ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭ দশমিক ৬ এবং ১৯৩০ সালে ধুবড়িতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। ১৫০ থেকে ২০০ বছরের ভূমিকম্প চক্র বিবেচনায় বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।

৪৪৫ নিরাপদ আশ্রয়স্থল

নগর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৪৪৫টি ভূমিকম্পের নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সংসদে জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী।

এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৫৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮৯টি স্থান রয়েছে। এসব স্থান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর এগুলো ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

তবে সরকার এখনো থানা বা এলাকাভিত্তিক ৪৪৫টি আশ্রয়স্থলের সুনির্দিষ্ট নামের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি।

প্রস্তুত হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক ডাটাবেজ

এদিকে ঢাকা মহানগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে বলে সংসদে জানান দুর্যোগমন্ত্রী।

আশ্রয়স্থল হিসেবে কেমন জায়গা বেছে নেওয়া হতে পারে

সরকারের নগর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস পরিকল্পনা ও ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় আশ্রয়ের জন্য ভবন থেকে দূরে থাকা উন্মুক্ত ও তুলনামূলক নিরাপদ স্থান গুরুত্বপূর্ণ।

সম্ভাব্য আশ্রয়স্থলের মধ্যে রয়েছে—

বড় সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক খেলার মাঠ বড় উন্মুক্ত পার্ক ও উদ্যান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খোলা মাঠ বা প্রাঙ্গণ বহুতল ভবন থেকে দূরে অবস্থিত বড় খালি জায়গা

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট এবং বড় সরকারি স্কুল-কলেজের খোলা প্রাঙ্গণও জরুরি পরিস্থিতিতে আশ্রয়ের জন্য ব্যবহারযোগ্য স্থান হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্থানকে সরকারি ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে গণ্য করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন