

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ক্যালেন্ডারের হিসাবে দিনটি ছিল ৫ আগস্ট। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় আন্দোলনকারীদের কাছে দিনটি পরিচিত হয়ে ওঠে ‘৩৬ জুলাই’ নামে। শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও দেশত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ—সবখানেই ছড়িয়ে পড়ে এই প্রতীকী শব্দবন্ধ। পঞ্জিকার নিয়মে অসম্ভব হলেও আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকের কাছে এটি বিজয়, স্মৃতি ও আত্মত্যাগের প্রতীক।
২০২৪ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। ১৬ জুলাই থেকে আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে থাকে। শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। এরপর আন্দোলন দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে কোটা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এলেও আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী এক দফা দাবিতে রূপ নেয়।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাইজুড়ে প্রাণহানি ও সহিংসতার ঘটনায় তাদের অঙ্গীকার ছিল—দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কাছে ‘জুলাই’ শেষ হবে না। সেই প্রতীকী অবস্থান থেকেই আগস্ট মাসের দিনগুলোকে জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা হিসেবে গণনা শুরু হয়।
এ হিসাবে ১ আগস্টকে বলা হয় ‘৩২ জুলাই’, ২ আগস্ট ‘৩৩ জুলাই’, ৩ আগস্ট ‘৩৪ জুলাই’, ৪ আগস্ট ‘৩৫ জুলাই’ এবং ৫ আগস্টকে ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
আন্দোলনকারীদের মতে, ‘৩৬ জুলাই’ কেবল একটি প্রতীকী তারিখ নয়; এটি আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ, আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাদের দাবির চূড়ান্ত পরিণতির একটি প্রতীক। সে কারণেই দিনটি আন্দোলনের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে এবং পরবর্তী সময়েও ‘৩৬ জুলাই’ নামে ব্যাপক পরিচিতি পায়।