শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না শেখ মুজিবের: স্পিকার

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙার কোনো ইচ্ছা বা বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়ার কোনো বাসনা শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল না। তাই ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্র্যাকডাউনের আগে তাজউদ্দিন আহমেদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

শনিবার (১১ জুলাই) ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ইতিহাস ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ​ মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, তাজউদ্দিন সাহেব শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তানিরা আক্রমণ করতে যাচ্ছে, মানুষ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ সাহেব তখন বলেছিলেন, আমি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারি না, পাকিস্তান ভাঙতে আমার কোনো অবদান থাকুক এটি আমি চাই না। সুতরাং তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

এ প্রসঙ্গে স্পিকার আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে যখন জাতি দিশেহারা ও অবদমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখনই ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাহসের সাথে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সংকটময় মুহূর্তে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল।

মেজর হাফিজ উদ্দিন দাবি করেন, ৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল একটি জনতার যুদ্ধ।

​তার অভিযোগ, স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় এসে একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃত করে শুধু ৭ই মার্চের ভাষণের ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনতার কৃতিত্ব নিতে চেয়েছিল, যা ছিল চরম অন্যায়।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা সাধারণত অন্যের কৃতিত্ব হাইজ্যাক করেন এবং নিজের দলের নেতাকে ছাড়া কাউকে কৃতিত্ব দিতে চান না। ​ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় পূর্ব পাকিস্তানে এই রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে অবস্থানরত সদস্যরা পূর্বপরিকল্পনা বা পারস্পরিক সমন্বয় ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করেন এবং সাধারণ মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে আহ্বান জানান। তার মতে, এই প্রতিরোধই পরবর্তী নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

নিজের সামরিক জীবনের শুরু সম্পর্কে তিনি জানান, ফুটবলের প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের উৎসাহে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বক্তব্যে তিনি জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তার অনুপ্রেরণাই সেনাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছিল। পাশাপাশি তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে রেজিমেন্টের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা ও সৈনিকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Norway VS England
Scheduled
12 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup