

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দক্ষিণ ইতালির বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা চেয়ে ঢাকায় এসে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইতালিভিত্তিক ফোকাস (FOQUS) ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সম্প্রতি ঢাকার ইউনূস সেন্টারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন ফোকাস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট রাকেলে ফুরফারো এবং জেনারেল ম্যানেজার রেনাতো কোয়াগলিয়া। বৈঠকে তারা দক্ষিণ ইতালির বিভিন্ন শহরে দারিদ্র্য, শিক্ষার নিম্নমান, আবাসন সংকট এবং অভিবাসীদের নানা সমস্যার সমাধানে তাদের দীর্ঘদিনের কাজ ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা জানান, নেপলস, পালের্মো এবং পোটেনজা শহরে বিদ্যমান সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়নি। এ কারণে আরও কার্যকর ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে তারা প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।
বৈঠকে দক্ষিণ ইতালির ঝুঁকিপূর্ণ ও পিছিয়ে থাকা নগরাঞ্চলের উন্নয়নে শিক্ষা, সামাজিক ব্যবসা এবং কমিউনিটিভিত্তিক উদ্ভাবনের ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় ফোকাস ফাউন্ডেশনের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
নেপলসভিত্তিক ফোকাস ফাউন্ডেশন শিক্ষা, জনকল্যাণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও সামাজিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে নগর পুনরুজ্জীবনে কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে নেপলসের কোয়ার্তিয়েরি স্পানিওলি এলাকায় কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে তারা প্রারম্ভিক শিশুশিক্ষা, সাংস্কৃতিক পর্যটন, ক্যাটারিং, হস্তশিল্প উৎপাদন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমে সামাজিক ব্যবসা ও সামাজিক উদ্যোগগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে।
ফাউন্ডেশনটি এখন তাদের সফল মডেল দক্ষিণ ইতালির অন্যান্য অঞ্চল, বিশেষ করে পালের্মো ও পোটেনজায় সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের লক্ষ্য হলো স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্বনির্ভর উদ্যোগ গড়ে তোলা, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি এবং জনগণনির্ভর সমাধানের মাধ্যমে বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখবে। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও অগ্রগতি তুলনামূলকভাবে ধীর হওয়ায় সমস্যাগুলোর সমাধানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে আরও অভিজ্ঞ ও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণেই তারা ঢাকায় এসে প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন, যাতে নেপলস, পালের্মো ও পোটেনজার সমস্যাগুলোর সমাধানের পাশাপাশি বৃহত্তর দক্ষিণ ইতালি অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়।
আলোচনায় নেপলস, পালের্মো ও পোটেনজায় প্রফেসর ইউনূসের সামাজিক ব্যবসা (সোশ্যাল বিজনেস) মডেল প্রয়োগের সম্ভাবনা বিশেষ গুরুত্ব পায়।
প্রতিনিধিদলটি ইউনূস সেন্টার ও ফোকাস (FOQUS) ফাউন্ডেশনের মধ্যে সহযোগিতার একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা করে, যার অংশ হিসেবে একটি মেডিটেরেনিয়ান সোশ্যাল ইনোভেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
প্রস্তাবিত এই কেন্দ্রটি প্রফেসর ইউনূসের ‘তিন শূন্যের পৃথিবী’ (শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ, সম্পদের কেন্দ্রীভবন রোধের মাধ্যমে দারিদ্র্যের অবসান এবং সবার মধ্যে উদ্যোক্তার বিকাশ ঘটিয়ে শূন্য বেকারত্ব অর্জন) দর্শনের ভিত্তিতে কাজ করবে। এই কেন্দ্র শিক্ষা, সামাজিক উদ্ভাবন, সামাজিক ব্যবসা এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের একটি আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
ফোকাস (FOQUS) ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদল প্রফেসর ইউনূসকে যত দ্রুত সম্ভব দক্ষিণ ইতালি সফরের আমন্ত্রণ জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সফরকালে তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরিস্থিতি সরেজমিনে মূল্যায়ন করবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন।
প্রফেসর ইউনূস প্রতিনিধিদলকে তাদের চাওয়া সহযোগিতার বিষয়ে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন। তিনি জানান, এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে তাঁর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ ইতালি সফরের পরিকল্পনা ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় নেতা, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ এবং সামাজিক কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সম্ভাব্য কর্মপন্থা নির্ধারণে ইতিবাচক সাড়া দেন।
