

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ‘নীতিগত সিদ্ধান্ত’ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নবম পে-কমিশন ২০টি বেতন গ্রেড প্রস্তাব করেছে। এ পে-স্কেলে— সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। আর সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকার দুটি বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনা করছে। প্রথমটি তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনা। এতে প্রথম বছরে প্রস্তাবিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে। বাকি অংশ দ্বিতীয় বছরে এবং বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা তৃতীয় বছরে দুই ধাপে দেওয়া হবে। দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি ও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নবম পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনে এবং বাকি অংশ পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ব্যয় করা হবে।
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। এতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। তাদের পেছনে সরকারের বর্তমান বাৎসরিক ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। কমিশনের নতুন এই সুপারিশগুলো কার্যকর করতে হলে সরকারকে অতিরিক্ত আরও ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। এই বিশাল অংকের বাজেট বরাদ্দের বিষয়টি মাথায় রেখেই তিন ধাপে বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
