বুধবার
০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বৃক্ষরোপণকে গণআন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান সড়ক ও সেতু মন্ত্রীর

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
expand
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে গৃহীত এ কর্মসূচিকে ব্যক্তি পর্যায়ের আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বুধবার (১ এপ্রিল) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে দেশব্যাপী বৃহৎ পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, এটি সরকারের একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি এবং একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, ‘বৃক্ষরোপণকে আমরা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বা সামাজিক কর্মসূচি হিসেবে দেখতে চাই না; বরং এটিকে ব্যক্তি পর্যায়ের আন্দোলনে রূপ দিতে চাই। দেশের প্রতিটি দপ্তর, মন্ত্রণালয়, সংস্থা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন দেশের সকল সড়ক ও মহাসড়কে বাস্তবভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক পরিহার করে সাশ্রয়ী, অনাড়ম্বর এবং কার্যক্রমবান্ধব পদ্ধতিতে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, ‘কার্যক্রমবান্ধব বলতে আমরা বুঝি—যে এলাকায় যে গাছ ভালো জন্মায়, সেই গাছ নির্বাচন করা, উপযুক্ত মানের চারা ব্যবহার করা এবং রোপণের পর সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা। আমরা চাই না শুধু গাছ লাগিয়ে দায়িত্ব শেষ করা হোক; বরং আমরা চাই, ১০০টি গাছ লাগালে অন্তত ৮০ থেকে ৮৫টি গাছ যেন টিকে থাকে এবং পূর্ণতা পায়।’

জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচিকে সফল করতে হলে এটিকে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের অংশ করে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, ‘পরিবারে নতুন সদস্য আগমন, কোনো সুসংবাদ বা আনন্দঘন মুহূর্তে যদি প্রতিটি পরিবার কয়েকটি করে গাছ লাগায়, তাহলে খুব অল্প সময়েই আমরা একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি তাদের পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনদেরও এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে করে একটি বৃহৎ সামাজিক সচেতনতা তৈরি হবে এবং কর্মসূচিটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিস্তৃত হবে।

পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রয়োজনীয় বনভূমির ঘাটতি রয়েছে এবং ভবিষ্যতে বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে এ বছর ৫ কোটি এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ওপর বর্তায়।

মন্ত্রী আরও জানান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক, সংযোগ সড়ক এবং নতুন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পসমূহে যেখানে যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি” গ্রহণ করা হয়েছে, যা একটি টেকসই ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সভাপতির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, সাধারণত বর্ষা মৌসুমে বৃক্ষরোপণ শুরু হলেও সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ বছর ১ এপ্রিল থেকেই এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

তিনি জানান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সকল দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে সড়কভিত্তিক বৃক্ষরোপণের জন্য উপযুক্ত প্রজাতি নির্বাচন করা হয়েছে এবং রোপণের পর নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করা হবে।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভাপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন