

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশে অবস্থানরত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) মিচেল লি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শুরুতেই মিচেল লি প্রতিমন্ত্রীকে তার দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে অভিনন্দন জানান। প্রতিমন্ত্রী এই সুযোগে বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
চলমান দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রম এবং দুই দেশের জনগণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মিচেল লি বিশেষ করে সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ইতিবাচক অবদান উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, চাঙ্গি বিমানবন্দরসহ সিঙ্গাপুরের আসন্ন বড় অবকাঠামো ও ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম দক্ষ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সিঙ্গাপুরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সরকারের অগ্রাধিকার।
সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে দ্রুত বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (বিএসএফটিএ) সম্পাদনের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বে টার্মিনাল প্রকল্পে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করা হয়। প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন, বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং অগ্রগতি সহজতর করবে।
উভয় পক্ষ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো খাতে বিনিয়োগ এবং সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। সিঙ্গাপুর ডিজিটাল সুশাসন ও আইসিটি খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রতিমন্ত্রী ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবার দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং ব্যয় হ্রাসের ওপর সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বৈঠকে বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনকারী বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগে বিনিয়োগসহ জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। সিঙ্গাপুর নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সুযোগ অনুসন্ধানে আগ্রহ প্রকাশ করে।
প্রতিমন্ত্রী বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস ও বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের প্রচারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। সিঙ্গাপুর খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য খাদ্য আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং বাংলাদেশ থেকে আম ও সামুদ্রিক খাবারের সম্ভাব্য আমদানি নিয়ে আলোচনা করে।
এছাড়া পাট, সিরামিক এবং চামড়ার মতো বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময়ের গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের সম্ভাব্য বিনিয়োগকে স্বাগত জানান এবং সরকারের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও নীতির ওপর আলোকপাত করেন।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং এ বছর ঢাকায় পরবর্তী পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ সভার আয়োজনের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানায়। তারা পারস্পরিক স্বার্থে সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
মন্তব্য করুন
