

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অনেকেই দ্রুত ওজন কমাতে চায়। কারও লক্ষ্য থাকে নিজেকে ফিট রাখা, আবার কারও ক্ষেত্রে চিকিৎসাজনিত কারণে ওজন কমানো প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু বেশি বেশি ওজন কমানোর চেষ্টা করা শরীরের জন্য খারাপ হতে পারে। তাই দ্রুত ওজন কমাতে হলেও খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম ও বিশ্রামের দিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
নিরাপদ ও স্থায়ী ওজন কমানোর লক্ষ্য হওয়া উচিত ধীরে ধীরে ওজন কমানো। ব্যক্তিভেদে বয়স, উচ্চতা, শারীরিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয় বিবেচনা করে ওজন কমানোর পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
ওজন কমানোর জন্য খাবারের পরিমাণ ও ধরন নিয়ন্ত্রণ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত সময়ে পরিমিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, ডাল, পূর্ণ শস্য এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাছ, ডিম বা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখতে পারেন।
তেলে ভাজা খাবার, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো ভালো।
চা-কফিতে অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয়, মিষ্টি ও প্যাকেটজাত মিষ্টি পানীয় নিয়মিত খেলে শরীরে বাড়তি ক্যালরি যোগ হতে পারে। ওজন কমানোর লক্ষ্য থাকলে এসব খাবার ও পানীয়ের পরিমাণ কমিয়ে পানি বা চিনি ছাড়া পানীয় বেছে নিতে পারেন।
পানি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। তৃষ্ণা পেলে পানি পান করুন এবং খাবারের সাথে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করুন। তবে পানি শরীরের টক্সিন দূর করে চর্বি কমায়- এ ধরনের দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে খাবারের পাশাপাশি ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা নিজের সম্ভাবনা অনুযায়ী অন্যান্য ব্যায়াম করা যেতে পারে।
হঠাৎ করে দীর্ঘ সময় কঠোর ব্যায়াম শুরু করবেন না। ধীরে ধীরে সময় ও পরিশ্রম বাড়ানো ভালো। যাদের ব্যায়ামের অভ্যাস নেই বা কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানোর চেষ্তা করুন এবং ঘুমের পরিবেশ আরামদায়ক রাখুন। শুধু বেশি ঘুমালেই ওজন বাড়ে- এমন সরল সম্পর্ক ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ অনেকের খাবারের অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে অস্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তাই হাঁটা, পছন্দের কাজ করা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা বিশ্রামের মাধ্যমে চাপ কমানোর চেষ্তা করুন।
রাতের খাবার খুব ভারী না করে পরিমিত খাবার খাওয়া ভালো। ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন। তবে ওজন কমানোর জন্য সবার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে রাতের খাবার শেষ করতে হবে—এমন নিয়ম নেই। দিনের মোট খাবারের পরিমাণ ও মান গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রিন টি বা সবজি দিয়ে তৈরি সালাদ স্বাস্থ্যকর খাবার হতে পারে। তবে শুধু গ্রিন টি পান করলে ওজন কমবে না। একইভাবে সালাদে স্বাস্থ্যকর উপাদান থাকলেও ড্রেসিং, চিনি বা উচ্চ ক্যালরি যোগ করলে ক্যালরি বেড়ে যেতে পারে।
একমাসে অনেক বেষি ওজন কমানো সবার জন্য নিরাপদ নয়। খুব দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করে খাবার বন্ধ করে দেওয়া, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, ওজন কমানোর ওষুধ খাওয়া বা অতিরিক্ত ব্যায়াম করা ঝুঁকিপূর্ন হতে পারে।
বিশেষ করে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে কিংবা গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময়ে ওজন কমানোর পরিকল্পনা করার আগে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো-দ্রুত ফল পাওয়ার চেয়ে ধীরে, নিয়ম মেনে এবং দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা যায় এমন জীবনযাপন বেছে নেওয়া।

