শুক্রবার
২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেজানো কিশমিশ-পানি খেলে কী উপকার হয়?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

কিশমিশ শুকনো ফল হিসেবে বেশ পরিচিত। পোলাও, পায়েস ও বিভিন্ন মিষ্টান্নে এর ব্যবহার রয়েছে। তবে কিশমিশ পানিতে ভিজিয়ে খাওয়ার অভ্যাসও অনেকের আছে। এতে কিশমিশ নরম হয় এবং খাওয়াও সহজ হয়। কিশমিশে প্রাকৃতিক শর্করা, আঁশ, পটাশিয়াম, আয়রনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

তবে কিশমিশ-পানিকে কোনো রোগের চিকিৎসা বা ‘ডিটক্স ড্রিংক’ হিসেবে বিবেচনা না করে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে দেখা ভালো।

কিশমিশ-পানি কী?

শুকনো আঙুরকে কিশমিশ বলা হয়। কয়েক ঘণ্টা বা সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখলে তৈরি হয় কিশমিশ-পানি। ভেজানো কিশমিশও খাওয়া যায়। এতে খাদ্যআঁশসহ কিশমিশের বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

কিশমিশ-পানির সম্ভাব্য উপকারিতা

  • শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে

কিশমিশে প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট থাকে। তাই এটি শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে শারীরিক পরিশ্রমের পর পরিমিত কিশমিশ খাওয়া উপকারী হতে পারে।

  • হজমে সহায়তা করে

কিশমিশে খাদ্যআঁশ রয়েছে। নিয়মিত পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করতে পারে। তাই ভেজানো কিশমিশ খাওয়ার সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।

  • হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক

কিশমিশে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করে।

  • ত্বকের জন্য উপকারী

কিশমিশে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এগুলো শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হিসেবে কিশমিশ ত্বকের সামগ্রিক সুস্থতায় সহায়তা করতে পারে।

  • হাড়ের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে

কিশমিশে ক্যালসিয়াম ও বোরনসহ কিছু খনিজ উপাদান রয়েছে। এগুলো হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয়।

  • রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় সহায়তা

কিশমিশে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে সহায়তা করে।​​​​​​​

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে

কিশমিশে আঁশ থাকায় এটি কিছুটা সময় পেট ভরা রাখতে পারে। তবে এতে প্রাকৃতিক চিনি ও ক্যালরিও রয়েছে। তাই ওজন কমানোর জন্য বেশি পরিমাণে কিশমিশ খাওয়া ঠিক নয়।

  • আয়রনের উৎস

কিশমিশে আয়রন রয়েছে, যা শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে প্রয়োজনীয়। তবে রক্তস্বল্পতার চিকিৎসার জন্য শুধু কিশমিশের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

যেভাবে কিশমিশ-পানি তৈরি করবেন

প্রায় এক-চতুর্থাংশ কাপ কিশমিশ পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। ৬–৮ ঘণ্টা বা সারা রাত ভিজিয়ে রাখার পর সকালে কিশমিশসহ পানিটা খাওয়া যায়।

ভেজানো কিশমিশটিও খেলে খাদ্যআঁশ পাওয়া যাবে। তবে এতে বাড়তি চিনি বা মধু মেশানোর প্রয়োজন নেই।

যাদের সতর্ক থাকা দরকার

কিশমিশে প্রাকৃতিক শর্করা ও ক্যালরি তুলনামূলক বেশি। তাই ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা থাকলে পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। একইভাবে কিডনি রোগ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে নিয়মিত বেশি পরিমাণে কিশমিশ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিশমিশ-পানি কোনো জাদুকরী পানীয় নয়। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবেই এটি খাওয়া সবচেয়ে ভালো।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন