

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে লিপোসাকশন বা অতিরিক্ত মেদ কমানোর অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার অলিভিয়া ওরাস। গত ৩ সেপ্টেম্বর হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার পরপরই তিনি জ্ঞান হারিয়েছিলেন। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা ও রোগীর জীবনের ঝুঁকির অভিযোগ তুলে ওরাসের পরিবার আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্লাস্টিক সার্জারি সেন্টারে অভিযান চালিয়ে এর কার্যক্রম স্থগিত করেছে এবং সম্ভাব্য গুরুতর হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ ছয় বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
অলিভিয়ার এই অকাল প্রয়াণ তার বর্ণাঢ্য অথচ বেশ জটিল জীবনের একটি দুঃখজনক সমাপ্তি টেনেছে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে অনলাইনে নিজের দৈনন্দিন জীবন তুলে ধরে তিনি পরিচিতি লাভ করেছিলেন এবং ১৬ বছর বয়সে ২০১৬ সালের ‘দ্য পারফেক্ট সেলফি’ তথ্যচিত্রে অংশ নেন।
তবে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত চাপ ও মানসিক উদ্বেগের কারণে একসময় তিনি সব অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলে আমস্টারডামে নতুন জীবন শুরুর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরবর্তীতে এক বন্ধুর আকস্মিক আত্মহত্যা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।
প্রিয়জনের সেই শোকে হেলসিঙ্কিতে ফিরে এসে তিনি মদ্যপান ও ঘুমের ওষুধের আসক্তির মতো কঠিন পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কেবল একটি একক দুর্ঘটনা নয়, বরং চিকিৎসা নিরাপত্তা, অ্যানেস্থেশিয়া ব্যবস্থাপনা এবং অস্ত্রোপচারের আগে-পরে রোগীর নিবিড় পর্যবেক্ষণ নিয়ে গুরুতর কিছু প্রশ্ন সামনে এনেছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায় নিশ্চিত করা না গেলেও, এই ঘটনাটি চিকিৎসাক্ষেত্রে জবাবদিহিতা এবং সৌন্দর্যবর্ধক অস্ত্রোপচারের নামে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

