

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শরীরের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ ফুলে যাওয়া, লালচে ভাব ও ব্যথার সঙ্গে পুঁজ জমলে তাকে সাধারণভাবে ফোড়া বা অ্যাবসেস বলা হয়। ত্বকের ফোড়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জীবাণুর সংক্রমণের কারণে তৈরি হয়। তবে শরীরের কোন জায়গায় হয়েছে, কতটা বড় এবং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে এর জটিলতা ভিন্ন হতে পারে।
বিশেষ করে বগল, কুঁচকি, কোমরের বেল্টের আশপাশসহ যেসব জায়গায় ঘাম ও ঘর্ষণ বেশি হয়, সেখানে ফোড়া হওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। গোপন স্থানে ফোড়া হলে অনেকে সংকোচের কারণে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ত্বক বা শরীরের কোনো অংশে জীবাণুর সংক্রমণ হলে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সেটির বিরুদ্ধে কাজ শুরু করে। সংক্রমিত স্থানে মৃত কোষ, জীবাণু ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার বিভিন্ন উপাদান জমে পুঁজ তৈরি হতে পারে। এভাবেই ধীরে ধীরে ফোড়া তৈরি হয়।
ত্বকের ছোট ফোড়া অনেক সময় নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে কিছু ফোড়া দ্রুত বড় হতে পারে, প্রচণ্ড ব্যথা করতে পারে কিংবা আশপাশের টিস্যুতে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে।
ফোড়ার সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
শরীরের ভেতরের কোনো অঙ্গে অ্যাবসেস হলে উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে এবং তা গুরুতরও হতে পারে। তাই অস্বাভাবিক বা দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
যে কারও ফোড়া হতে পারে। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। যেমন—
ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকলে: কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা নির্দিষ্ট চিকিৎসার কারণে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেলে সংক্রমণের প্রবণতা বাড়তে পারে।
অতিরিক্ত ঘাম ও ঘর্ষণ: গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বেশি ঘাম হলে এবং ত্বকে বারবার ঘর্ষণ হলে ফোড়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ত্বকের ক্ষত বা আঘাত: ত্বকে কাটা, ক্ষত বা আঘাতের মাধ্যমে জীবাণু প্রবেশ করলে সংক্রমণ হতে পারে।
ছোট ফোড়া হলে আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার ও শুকনো রাখা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফোড়া নিজে থেকে চেপে, ফুটো করে বা সুচ দিয়ে খোঁচানো উচিত নয়। অপরিষ্কার পিন, কাঁটা বা অন্য কোনো বস্তু দিয়ে ফোড়া ফুটো করলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে এবং আশপাশের টিস্যুতে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
ফোড়া বড় হলে, প্রচণ্ড ব্যথা হলে, পুঁজ জমে গেলে বা জ্বর দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক ফোড়া পরীক্ষা করে ওষুধ দিতে পারেন অথবা নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত পদ্ধতিতে পুঁজ বের করার ব্যবস্থা করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে।
নিয়মিত গোসল করুন এবং অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীর পরিষ্কার ও শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। পরিষ্কার, আরামদায়ক পোশাক পরুন।
ঘামযুক্ত পোশাক দীর্ঘ সময় পরে থাকা এড়িয়ে চলুন। অন্তর্বাস প্রতিদিন পরিবর্তন করে পরিষ্কার করে ব্যবহার করা ভালো।
ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। বারবার ফোড়া হলে এর পেছনে কোনো শারীরিক কারণ আছে কি না, সেটিও চিকিৎসকের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।
কেটে গেলে বা আঘাত পেলে দ্রুত পরিষ্কার করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নিন। ক্ষতস্থানে অপরিষ্কার হাত দিয়ে বারবার স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
ফোড়া বারবার হলে, ব্যথা না থাকলেও দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, দ্রুত বড় হলে কিংবা জ্বরের সঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ফোড়া সাধারণ সমস্যা হলেও সব ক্ষেত্রে তা হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণ, প্রচণ্ড ব্যথা, জ্বর বা শরীরের সংবেদনশীল স্থানে ফোড়া হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।


