বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেয়ারার পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

সারা বছরই কমবেশি পাওয়া যায় দেশীয় ফল পেয়ারা। সহজলভ্য ও তুলনামূলক কম দামের এই ফলে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বিশেষ করে ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস হিসেবে পেয়ারার বেশ পরিচিতি রয়েছে।

নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে পেয়ারা খেলে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে এটি শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে শুধু পেয়ারা বা পেয়ারার পাতা খাওয়ার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

পেয়ারায় কী কী পুষ্টি রয়েছে?

পেয়ারায় রয়েছে ভিটামিন সি, ফাইবার, ভিটামিন এ, বিভিন্ন বি ভিটামিন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাসসহ নানা পুষ্টি উপাদান। এতে থাকা ফাইবার হজমে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে।

প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট, সামান্য প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে। পেয়ারার পুষ্টিমান জাত ও পরিপক্বতার ওপর কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য পেয়ারা

পেয়ারায় প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি শরীরের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।

হজমের জন্য উপকারী

পেয়ারায় থাকা খাদ্যআঁশ বা ফাইবার অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। তাই নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে পেয়ারা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করতে পারে।

তবে ডায়রিয়া, আমাশয় বা অন্য কোনো পেটের রোগ হলে শুধু পেয়ারা খেয়ে চিকিৎসা করার চেষ্টা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ওজন নিয়ন্ত্রণে পেয়ারা

পেয়ারায় ফাইবার থাকায় এটি খেলে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি হতে পারে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পেয়ারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ব্যক্তিদের জন্য ভালো ফল হতে পারে।

তবে শুধু পেয়ারা খেলেই ওজন কমবে এমন ধারণা ঠিক নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সুষম খাবার ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

পেয়ারায় পটাশিয়াম রয়েছে, যা শরীরের স্বাভাবিক রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে পেয়ারা খাওয়া তাই হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

তবে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা হিসেবে ওষুধের পরিবর্তে পেয়ারা খাওয়া উচিত নয়।

চোখের স্বাস্থ্যে ভূমিকা

পেয়ারায় ক্যারোটিনয়েডসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান চোখের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চোখের কোনো রোগ থাকলে শুধু পেয়ারা খাওয়াকে চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

ত্বকের জন্য পেয়ারা

পেয়ারার ভিটামিন সি শরীরে কোলাজেন তৈরির প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। কোলাজেন ত্বকের গঠন ও স্বাভাবিক দৃঢ়তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ পেয়ারা ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে।

পেয়ারার পাতা কি খাওয়া উচিত?

পেয়ারার পাতা নিয়ে নানা ধরনের প্রচলিত ধারণা রয়েছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, পেটের সমস্যা বা মাসিকের ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে পেয়ারার পাতার ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন কথা শোনা যায়। তবে এসব সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে পেয়ারার পাতা বা পাতার রস ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডায়াবেটিসে পেয়ারা খাওয়া যাবে?

ডায়াবেটিস থাকলেও পরিমাণ বুঝে পেয়ারা খাওয়া যেতে পারে। এতে ফাইবার রয়েছে, যা খাবারের পর রক্তে শর্করা বাড়ার গতি নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়তা করতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীর জন্য কতটুকু ফল উপযুক্ত, তা ব্যক্তির খাদ্যতালিকা ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

পেয়ারা খাওয়ার সঠিক উপায়

পেয়ারা ভালোভাবে ধুয়ে সরাসরি খাওয়া সবচেয়ে সহজ উপায়। অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা ঝাল মসলা দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা ভালো। ফলের জুসের চেয়ে পুরো ফল খেলে ফাইবার পাওয়া যায় বেশি।

পেয়ারায় ভিটামিন সি, ফাইবার, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তাই প্রতিদিনের সুষম খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে পেয়ারা রাখা যেতে পারে। তবে কোনো রোগ সারানোর বা চিকিৎসা করার ফল হিসেবে পেয়ারা ব্যবহার করা ঠিক নয়। নির্দিষ্ট রোগ বা শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন