সোমবার
৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জন্ডিস হলে কী খাবেন, কী করবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

চোখের সাদা অংশ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া এসব জন্ডিসের পরিচিত লক্ষণ। তবে জন্ডিস নিজে কোনো রোগ নয়; এটি শরীরে অন্য কোনো সমস্যার লক্ষণ। তাই জন্ডিস দেখা দিলে অবহেলা না করে এর কারণ শনাক্ত করা জরুরি।

রক্তে বিলিরুবিন নামের একটি পদার্থের মাত্রা বেড়ে গেলে চোখ ও ত্বক হলুদ দেখাতে পারে। লিভারের সমস্যা, হেপাটাইটিস ভাইরাস, পিত্তনালির বাধা, কিছু ওষুধ কিংবা রক্তের বিভিন্ন সমস্যার কারণেও জন্ডিস হতে পারে।

জন্ডিস হলে প্রথমে কী করবেন?

জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা, লিভার ফাংশন টেস্ট, আলট্রাসনোগ্রাম বা অন্যান্য পরীক্ষা দিতে পারেন। কারণ না জেনে নিজে থেকে ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়।

বিশেষ করে চোখ ও শরীর বেশি হলুদ হয়ে গেলে, অতিরিক্ত দুর্বলতা, পেটব্যথা, জ্বর, বারবার বমি, অস্বাভাবিক ঘুম ঘুম ভাব বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

জন্ডিসের প্রধান কারণ-

বাংলাদেশে ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিস জন্ডিসের অন্যতম কারণ। হেপাটাইটিস এ ও ই সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়াতে পারে। অন্যদিকে হেপাটাইটিস বি রক্ত ও শরীরের নির্দিষ্ট তরলের মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে।

এ ছাড়া পিত্তথলি বা পিত্তনালির সমস্যা, লিভারের অন্যান্য রোগ এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও জন্ডিসের কারণ হতে পারে।

জন্ডিস হলে কী খাবেন?

জন্ডিস হলে না খেয়ে থাকা বা শুধু নির্দিষ্ট কিছু খাবারের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। রোগীর অবস্থা ও জন্ডিসের কারণ অনুযায়ী খাবারের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। সাধারণভাবে-

  • পর্যাপ্ত ও নিরাপদ পানি পান করুন।
  • সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার খান।
  • ভাত, রুটি, আলু, ফল ও প্রয়োজনীয় প্রোটিন খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।
  • অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে খেলে অস্বস্তি হলে।
  • বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার ও দূষিত পানি থেকে দূরে থাকুন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ভেষজ, কবিরাজি বা অজানা ওষুধ খাবেন না।

আখের রস কি জন্ডিসের ওষুধ?

না। আখের রস জন্ডিসের কোনো প্রমাণিত চিকিৎসা নয়। অপরিষ্কার পরিবেশে তৈরি বা দূষিত পানি মেশানো আখের রস খেলে উল্টো সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। জন্ডিসের কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বেশি পানি খেলে কি জন্ডিস সেরে যায়?

এটিও একটি ভুল ধারণা। পর্যাপ্ত পানি পান করা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও অতিরিক্ত পানি পান করলেই রক্তের বিলিরুবিন দ্রুত কমে যাবে- এমন নয়। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ পানি পান করা উচিত।

হলুদ খেলে কি জন্ডিস বাড়ে?

খাবারে ব্যবহৃত হলুদ খেলে জন্ডিস বেড়ে যায় এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। জন্ডিসে শরীর হলুদ দেখায় রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে যাওয়ার কারণে, রান্নার হলুদ খাওয়ার কারণে নয়।

বিশ্রাম ও ওষুধের বিষয়ে সতর্কতা

অসুস্থ ও দুর্বল লাগলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। তবে জন্ডিসের সব রোগীর জন্য একই ধরনের বিশ্রামের নিয়ম প্রযোজ্য নয়। রোগের কারণ ও শারীরিক অবস্থার ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে।

বিশেষ সতর্কতা হলো, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক, ঘুমের ওষুধ বা ভেষজ ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়। কিছু ওষুধ লিভারের ক্ষতি করতে পারে।

কীভাবে জন্ডিসের ঝুঁকি কমাবেন?

জন্ডিসের সব কারণ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে সংক্রমণজনিত ঝুঁকি কমাতে-

  • নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
  • খাবারের আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
  • রাস্তার অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • ইনজেকশনের ক্ষেত্রে জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম ব্যবহার নিশ্চিত করুন।
  • অন্যের ব্যবহৃত ব্লেড, ক্ষুর বা সূঁচ ব্যবহার করবেন না।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হেপাটাইটিসের প্রয়োজনীয় টিকা নিন।

গর্ভাবস্থায় জন্ডিস হলে সতর্কতা-

গর্ভাবস্থায় জন্ডিস হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে হেপাটাইটিসজনিত সংক্রমণ মা ও গর্ভের শিশুর জন্য জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই এ সময় ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা উচিত।

নবজাতকের জন্ডিস-

নবজাতকের জন্ডিস বেশ সাধারণ হলেও সব জন্ডিসকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া যাবে না। জন্মের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জন্ডিস দেখা দিলে, হলুদভাব দ্রুত বাড়লে, শিশু দুধ খেতে না চাইলে, খুব নিস্তেজ থাকলে বা কয়েক দিন পরও সমস্যা না কমলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

জন্ডিস কোনো একক রোগ নয়। তাই শুধু আখের রস, ডাবের পানি বা বিশেষ কোনো খাবারের ওপর নির্ভর না করে জন্ডিসের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে জরুরি।

জন্ডিস কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়, বরং শরীরে অন্য কোনো সমস্যার লক্ষণ। তাই চোখ বা ত্বক হলুদ হলে শুধু ঘরোয়া উপায় বা বিশেষ কোনো খাবারের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাবার ও বিশ্রামের পাশাপাশি জন্ডিসের প্রকৃত কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াই দ্রুত সুস্থ হওয়ার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন