

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রক্তচাপ কমে যাওয়ার সমস্যা অনেকেরই হয়ে থাকে। শরীরে পানির ঘাটতি, রক্তস্বল্পতা, পুষ্টির অভাব, গর্ভাবস্থা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা হৃদ্যন্ত্রের সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে রক্তচাপ কমতে পারে। এ সময় মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, চোখে ঝাপসা দেখা, বমি ভাব, বুক ধড়ফড় কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
সাধারণভাবে রক্তচাপ ৯০/৬০ মিমি মার্কারির নিচে হলে তাকে নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসার বলা হয়। তবে শুধু একটি রক্তচাপের রিডিং দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে উপসর্গ ও কারণও বিবেচনা করা জরুরি।
পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান করুন
পানিশূন্যতা রক্তচাপ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি স্যুপ, দুধ, ডাবের পানি বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর তরলও খাওয়া যেতে পারে। ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত বমির কারণে পানি ও লবণ কমে গেলে ওরাল স্যালাইন (ORS) উপকারী হতে পারে।
খাবারে পরিমাণমতো লবণ
সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তবে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি থাকলে ইচ্ছেমতো লবণ খাওয়া ঠিক নয়। রক্তচাপ কমে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারে পরিমাণমতো লবণ রাখা যেতে পারে।
আয়রন ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার
রক্তস্বল্পতা থাকলে তার চিকিৎসা করা জরুরি। খাদ্যতালিকায় আয়রন, ভিটামিন বি১২ ও ফলেটসমৃদ্ধ খাবার রাখা যেতে পারে। যেমন-
ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সহায়তা করে। তাই খাবারের সঙ্গে কমলা, পেয়ারা, লেবু বা অন্যান্য ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফল রাখা যেতে পারে।
সবজি, ডাল, মুরগি বা অন্যান্য উপাদানে তৈরি স্যুপ শরীরে তরল সরবরাহের পাশাপাশি কিছুটা সোডিয়ামও দিতে পারে। তবে অতিরিক্ত লবণ বা সস ব্যবহার না করাই ভালো, বিশেষ করে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি রয়েছে।
কফি বা চায়ের ক্যাফেইন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তবে রক্তচাপ কমানোর মূল চিকিৎসা হিসেবে অতিরিক্ত কফি বা চা পান করা উচিত নয়। হৃদ্রোগ বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
রক্তচাপ বারবার কমে গেলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে এর কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। বিশেষ করে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, বিভ্রান্তি, প্রচণ্ড দুর্বলতা বা দ্রুত অবনতিশীল অবস্থার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
রক্তচাপ কমে গেলেই বেশি লবণ, লবণ-পানি বা ক্যাফেইন খাওয়া সবার জন্য নিরাপদ নয়। নিয়মিত নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কারণ নির্ণয় ও চিকিৎসা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ।


