

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড়, অস্বস্তি বা বমি বমি ভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে সবসময় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তাই শুধু উপসর্গের ওপর নির্ভর না করে সঠিক নিয়মে রক্তচাপ মাপা জরুরি।
একবার রক্তচাপ বেশি পাওয়া গেলেই সবসময় উচ্চ রক্তচাপের রোগী বলা যায় না। বিভিন্ন সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে একাধিকবার রক্তচাপ মেপে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
রক্তচাপ বেশি মনে হলে প্রথমেই আতঙ্কিত না হয়ে শান্তভাবে বসুন এবং কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন। এরপর সঠিক নিয়মে আবার রক্তচাপ মাপুন।
রক্তচাপ মাপার আগে অন্তত কয়েক মিনিট চুপচাপ বসে থাকা ভালো। পা মেঝেতে সমানভাবে রাখতে হবে এবং হাত টেবিলের ওপর এমনভাবে রাখতে হবে, যাতে কাফটি হৃদ্পিণ্ডের সমতলে থাকে।
প্রথমবার বেশি এলে কয়েক মিনিট পর আবার মাপুন। দুটি মাপের ফলাফল লিখে রাখলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শের সময় তা কাজে লাগতে পারে।
রক্তচাপ খুব বেশি হওয়ার পাশাপাশি যদি নিচের কোনো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে-
বিশেষ করে রক্তচাপ ১৮০/১২০ mmHg বা তার বেশি হলে কয়েক মিনিট বিশ্রামের পর পুনরায় মাপুন। একই রকম বেশি থাকলে এবং বিশেষ করে ওপরের কোনো গুরুতর উপসর্গ থাকলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে গেলে তেঁতুলের শরবত, ঠান্ডা পানি বা মাথায় বরফ দিলে রক্তচাপ দ্রুত কমে যায়, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। এসব ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই নিরাপদ।
রক্তচাপ বেড়ে গেলে দ্রুত কমানোর জন্য নিজের ইচ্ছায় অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে অন্য কারও প্রেসক্রিপশনের ওষুধ বা আগের কোনো ওষুধের অতিরিক্ত ডোজ নেওয়া উচিত নয়।
যারা নিয়মিত উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খান, তারা চিকিৎসকের দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করবেন। কোনো ডোজ ভুলে গেলে কী করবেন, তা ওষুধের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে- তাই চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
দীর্ঘমেয়াদে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু ওষুধ নয়, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য-
উচ্চ রক্তচাপকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়, কারণ দীর্ঘদিন রক্তচাপ বেশি থাকলেও উল্লেখযোগ্য উপসর্গ নাও থাকতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্তচাপ মাপতে হবে।
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে বিশ্রাম নিয়ে সঠিকভাবে আবার রক্তচাপ মাপুন। খুব বেশি রক্তচাপের সঙ্গে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা দৃষ্টির সমস্যা হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন। নিজের ইচ্ছায় অতিরিক্ত ওষুধ বা ঘরোয়া উপায়ে রক্তচাপ কমানোর চেষ্টা না করাই নিরাপদ।



