

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের প্রায় ৫ হাজার নাগরিককে (রোহিঙ্গা) নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম চূড়ান্ত করেছে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এতে বলা হয়, প্রথম পর্যায়ে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমার নাগরিক নিজ দেশে ফিরে যাবেন। গত ১৩ আগস্ট মিয়ানমার সরকারের পাঠানো কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে এদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয় এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সমন্বয় সভায় এই তারিখ অনুমোদন লাভ করে।
প্রথম দফার প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মিয়ানমার নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ এবং একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহার করা হবে। এ লক্ষ্যে লজিস্টিক সহায়তা ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের কাজটি মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ যৌথভাবে সম্পন্ন করেছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ২০২৬ সালে বিশেষ শরণার্থী হিসেবে দাবি করা ৪ হাজার ৮ জন মিয়ানমার নাগরিককে ‘ডকুমেন্ট পেন্ডাফতারান পেলারিয়ান’ (ডিপিপি) বা শরণার্থী নিবন্ধন কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এর পাশাপাশি আরও ৫ হাজার ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবেন।
তবে গত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপোতে আটক ১০ হাজার ৩৮৮ জন মিয়ানমার নাগরিককে শরণার্থী হিসেবে গণ্য করবে না দেশটি। তাদের পরিচয়, নাগরিকত্ব, ইমিগ্রেশন অবস্থা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করছে ইমিগ্রেশন বিভাগ ও রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ। ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে।
সরকার মূলত দুটি সম্পূরক কৌশলে এগোচ্ছে- একটি হলো মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করা এবং অপরটি হলো তথ্যভান্ডার তৈরির মাধ্যমে নিবন্ধন পরিচালনা করা। শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নিবন্ধিত ব্যক্তিরা ‘ডিপিপি কার্ড’ পাবেন, যা দিয়ে সরকারি নজরদারিতে সাময়িকভাবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানের সুযোগ মিলবে। অন্যদিকে উপযুক্ত ব্যক্তিদের পর্যায়ক্রমে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
মালয়েশিয়া সরকারের তথ্যমতে, সে দেশে থাকা ৯৫ শতাংশের বেশি শরণার্থী মিয়ানমারের নাগরিক, যাদের মধ্যে রোহিঙ্গা, চিন, কারেন ও মন জনগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছে। সমস্যাটির একতরফা সমাধান অসম্ভব হওয়ায় মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা আরও জোরদার করছে মালয়েশিয়া। দুই দেশের সম্মতিতে এই কার্যক্রম অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।


