

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঘুম ভাঙার পর চোখ পুরোপুরি খোলার আগেই অনেকের হাত চলে যায় মোবাইলের দিকে। অ্যালার্ম বন্ধ করা, নোটিফিকেশন দেখা, মেসেজের উত্তর দেওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ বুলিয়েই শুরু হয় দিনের প্রথম কয়েক মিনিট। বিষয়টি অনেকের কাছে স্বাভাবিক অভ্যাস হলেও, ঘুম থেকে ওঠার পরপরই স্ক্রিনে ডুবে যাওয়ার অভ্যাস মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।
ঘুম থেকে ওঠার পর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র পুরোপুরি সক্রিয় হতে কিছুটা সময় নেয়। এই সময়ে হঠাৎ করে একের পর এক তথ্য, বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট গ্রহণ করলে মস্তিষ্ককে দ্রুত সেগুলো প্রক্রিয়া করতে হয়। ফলে দিনের শুরুতেই মানসিক চাপ ও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে কর্টিসলের বিষয়টিও। ঘুম থেকে ওঠার সময় শরীরে স্বাভাবিকভাবেই এই হরমোনের মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে। জেগে ওঠার প্রক্রিয়ায় কর্টিসলের ভূমিকা রয়েছে। তবে ঘুম ভাঙার পরপরই উদ্বেগ তৈরি করে এমন খবর, পোস্ট, মেসেজ বা কর্মসংক্রান্ত তথ্য দেখতে শুরু করলে মানসিক চাপের অনুভূতি আরও তীব্র হতে পারে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখার সময় নেতিবাচক খবর, বিতর্ক, কাজের চাপ কিংবা অন্যের জীবনযাপনের সঙ্গে নিজের তুলনা দিনের শুরুতেই মনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে অস্থিরতা, বিরক্তি বা মনোযোগের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। প্রতিদিন একইভাবে দিন শুরু করার অভ্যাস থাকলে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের সঙ্গেও এর যোগ থাকতে পারে।
আরেকটি সমস্যা হলো—মোবাইল হাতে নেওয়া সহজে অভ্যাসে পরিণত হয়। অ্যালার্ম বন্ধ করার পর ‘একটু দেখি’ বলে শুরু হলেও কয়েক মিনিটের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদ, মেসেজ বা ই-মেইলে চলে যেতে পারেন। এতে ঘুম থেকে ওঠার পর নিজের শরীর ও মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে দিনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ কমে যায়।
তাই ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল হাতে না নেওয়াই ভালো। সম্ভব হলে অ্যালার্মের জন্য আলাদা ঘড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট ফোন থেকে দূরে থেকে পানি পান করা, হালকা হাঁটা, জানালা খুলে আলো-বাতাস নেওয়া কিংবা দিনের কাজের পরিকল্পনা করার মতো অভ্যাস করা যেতে পারে।
দিনের প্রথম কয়েক মিনিট কীভাবে কাটছে, সেটিও মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘুম ভাঙার পরই নোটিফিকেশনের জগতে ঢুকে পড়ার বদলে মস্তিষ্ককে স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হওয়ার কিছুটা সময় দেওয়া ভালো।


