

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিটরুট পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি সবজি। এতে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আঁশ ও নাইট্রেটসহ বিভিন্ন উপকারী উপাদান। নিয়মিত পরিমিত বিটরুট খেলে হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখা, হজমশক্তি বাড়ানো, শরীরচর্চার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
তবে উপকারী হলেও অতিরিক্ত বিটরুট খাওয়া সবার জন্য ভালো নাও হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের বিটরুট খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ এতে অক্সালেটের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।
বিটরুটে থাকা নাইট্রেট শরীরে রক্তনালির প্রসারণে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে রক্ত চলাচল সহজ হয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই পরিমিত বিটরুট হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
অনেক খেলোয়াড় ও শরীরচর্চাকারী বিটরুটের জুস পান করেন। এতে থাকা নাইট্রেট শরীরের অক্সিজেন ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করার সক্ষমতা বাড়তে পারে।
বিটরুটে থাকা খাদ্যআঁশ পরিপাকতন্ত্রের জন্য উপকারী। নিয়মিত পরিমিত আঁশযুক্ত খাবার খেলে মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করতে পারে।
বিটরুটে থাকা বিটেইন নামের একটি যৌগ যকৃতের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিটরুটকে শরীরের ‘ডিটক্স’ করার একমাত্র উপায় হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
বিটরুটের নাইট্রেট রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের যত্নে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে বিটরুট রাখা যেতে পারে।
বিটরুটে ভিটামিন সি, ফোলেট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ও বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে ভূমিকা রাখে।
বিটরুটে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বিটরুট ত্বকের সামগ্রিক সুস্থতায় সহায়তা করতে পারে।
বিটরুটে ক্যালরি তুলনামূলক কম এবং খাদ্যআঁশ রয়েছে। আঁশযুক্ত খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে।
বিটরুটে থাকা বিটালেইনসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। তবে কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিটরুটকে বিবেচনা করা উচিত নয়।
বিটরুটে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিটরুটে অক্সালেট রয়েছে। অতিরিক্ত অক্সালেট গ্রহণ কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম অক্সালেট কিডনি স্টোনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই যাঁদের আগে কিডনিতে পাথর হয়েছে বা এ ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিটরুট খাওয়া উচিত।
বিটরুট সেদ্ধ করে খাওয়া যেতে পারে। এতে অক্সালেটের একটি অংশ পানিতে চলে যেতে পারে। সেদ্ধ করার পর সেই পানি ফেলে দিলে অক্সালেটের পরিমাণ আরও কমতে পারে।
কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি থাকলে একই সময়ে বিটরুটের সঙ্গে পালংশাক, বাদাম বা অন্যান্য উচ্চ-অক্সালেটযুক্ত খাবার বেশি পরিমাণে না খাওয়াই ভালো। পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।


