

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভোটেকোশি নদীর আকস্মিক বন্যায় ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকার পরও বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে নেপাল। দেশটির সরকার বলছে, নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সক্ষম।
কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল সরকার বিদেশি উদ্ধারকারী দলের পরিবর্তে ‘ওয়ান-ডোর মেকানিজম’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পর পুনর্গঠন পর্যায়ে অতিরিক্ত আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা চাওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সরকার।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে নিখোঁজ ৫১৭ বিদেশির মধ্যে রয়েছেন ১৭৮ জন ভারতীয়, ৬৫ জন মার্কিন, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৫১ জন মালয়েশীয়, ৩৫ জন অস্ট্রেলীয়, ৩৩ জন ব্রিটিশ, ২৫ জন কানাডীয়সহ আরও তিন ডজনের বেশি দেশের নাগরিক।
চীনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের অন্তত ১০০ নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যায় আটকে পড়া দুই শতাধিক ভারতীয় নাগরিক এখনও উদ্ধারের অপেক্ষায় আছেন।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।
তার ভাষ্য, ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময় বিদেশি উদ্ধারকারী দলের আধিক্য ও দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিজ্ঞতা থেকেই এবার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশের সুপারিশেই সরকার নিজস্ব বাহিনীর ওপর ভরসা রাখছে।
বন্যাকবলিত বিদেশি নাগরিকদের সহায়তায় একটি ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করেছে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই দল নিখোঁজ বিদেশিদের অনুসন্ধান, তথ্য যাচাই এবং কনস্যুলার সহায়তা সমন্বয় করবে।
এ ছাড়া রসুয়া জেলার তিমুরে একজন আন্ডার সেক্রেটারির নেতৃত্বে বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে, যারা মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজদের সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করছে।
উদ্ধারকারী দল না নিলেও বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা নেপালকে আর্থিক ও মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। ভারত ইতোমধ্যে ৪৭ দশমিক ৫ টনের বেশি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে এবং বেইলি ব্রিজ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও বিশ্বব্যাংক আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং যুক্তরাজ্যও নেপালের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।


