

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সেফটি পিনের ইতিহাস জড়িয়ে আছে এক অভাবনীয় উদ্ভাবনের গল্পে। ১৮৪৯ সালে মার্কিন মেকানিক ওয়াল্টার হান্ট তার বন্ধুর কাছ থেকে নেওয়া ১৫ ডলারের একটি বকেয়া ঋণ কীভাবে শোধ করবেন, তা নিয়ে গভীর চিন্তায় ছিলেন।
ভাবনার এক পর্যায়ে টেবিলে থাকা মাত্র ৮ ইঞ্চি লম্বা একটি ধাতব তার হাত দিয়ে প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে তিনি তৈরি করে ফেলেন এক অনন্য পিনের নকশা।
এই পুরো কাজটি করতে তার সময় লেগেছিল মাত্র তিন ঘণ্টা! ওই বছরই ১০ এপ্রিলে তিনি এই উদ্ভাবনের পেটেন্ট লাভ করেন। ঋণ মেটাতে হান্ট পেটেন্টটি ৪০০ ডলারে বিক্রি করে দিলেও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে এটি থেকে আয় করেছিল লাখ লাখ ডলার।
প্রাচীন 'ফিবুলা' থেকে আধুনিক রূপ
ওয়াল্টার হান্টকে আধুনিক স্প্রিং-যুক্ত সেফটি পিনের জনক বলা হলেও, এর মূল ভাবনার ইতিহাস হাজার বছর পুরনো। প্রাচীন গ্রিক, রোমান ও মাইসিনীয় সভ্যতায় 'ফিবুলা' নামের এক ধরনের ধাতব অলঙ্কার বা পিন পোশাক আটকে রাখার জন্য ব্যবহৃত হতো। যুগের বিবর্তনে এবং বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় প্রাচীন সেই ফিবুলাই আজকের আধুনিক সেফটি পিনে রূপ নিয়েছে।
যে চমৎকার মেকানিক্সে মেলে নিরাপত্তা
একটি সেফটি পিন মূলত তিনটি প্রধান অংশের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে:
স্প্রিং লুপ: পিনের তলার গোল প্যাঁচানো অংশটি একটি স্প্রিং হিসেবে কাজ করে এবং পিনের দুটি বাহুকে বাইরের দিকে ঠেলে রাখার জন্য সার্বক্ষণিক চাপ বা 'টেনশন' তৈরি করে।
তীক্ষ্ণ সুঁচালো মুখ: এই অংশটি খুব সহজেই কাপড়ের সূক্ষ্ম বুননের মধ্য দিয়ে ঢুকে যেতে পারে।
নিরাপদ ক্যাপ (লকিং মেকানিজম): পিনের সুঁচালো মুখটি যখন ছোট ধাতব ক্যাপটির ভেতরে চেপে দেওয়া হয়, তখন স্প্রিংয়ের টানের কারণে তা আটকে যায়।
ফলে হঠাৎ ফুটে গিয়ে রক্ত বের হওয়ার বা আঘাত পাওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকে না। ব্যবহারকারীকে এই সার্বিক সুরক্ষার সুযোগ দেয় বলেই এর নাম হয়েছে 'সেফটি' পিন।
কালের খেয়ায় অপরিবর্তিত নকশা
গত ১৭০ বছরেরও বেশি সময়ে বিশ্বপ্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু ওয়াল্টার হান্টের তৈরি সেফটি পিনের মূল ডিজাইনে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়েনি।
সাশ্রয়ী খরচ, মেকানিক্যাল নিখুঁত নকশা এবং সুরক্ষার এমন চমৎকার মেলবন্ধন সত্যিই দুর্লভ। শাড়ি বা জামাকাপড় আটকানো, জরুরি মুহূর্তে ছেঁড়া পোশাক সামলানো কিংবা ঘরের নানা প্রয়োজনে আজও এটি আমাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী।


