

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সকালের বা সন্ধ্যায় এক কাপ গরম চায়ের সাথে দুটো বিস্কুট না খেলে অনেকের জমেই না বা যেন দিন শুরু হতে চায় না। আবার অনেকেই শুধু বিস্কুট খাওয়ার জন্যই চা পান করেন।
আপাতদৃষ্টিতে এই সাধারণ ও নির্দোষ মনে হওয়া অভ্যাসটি কি আসলেই আমাদের শরীরের জন্য ভালো?
লন্ডনের প্রখ্যাত চিকিৎসক ডক্টর সুমিত শর্মা এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে সকাল সকাল চা-বিস্কুট খাওয়ার এই অভ্যাস শরীরের মেটাবলিজম নষ্ট করে দেয় এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সমস্যাটা ঠিক কোথায়?
চিকিৎসক শর্মার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, রক্তে শর্করার সমস্যা হলে আমরা সাধারণত মিষ্টি, কোমল পানীয় বা কেককে দোষ দিয়ে থাকি। কিন্তু নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করে প্রতিদিন চায়ের সাথে খাওয়া এই বিস্কুটগুলো।
অধিকাংশ বিস্কুট তৈরি হয় পরিশোধিত ময়দা, চিনি এবং ভেজিটেবল অয়েল দিয়ে। এতে ফাইবার বা প্রোটিন থাকে না বললেই চলে।
এমনকি যেসব 'ডাইজেস্টিভ বিস্কুট'কে আমরা স্বাস্থ্যকর ভাবি, সেগুলোর প্রভাবও রক্তে সাধারণ সাদা পাউরুটির মতোই ক্ষতিকর। বিস্কুট খাওয়ার সাথে সাথে রক্তে দ্রুত গ্লুকোজ বেড়ে যায়, যার ফলে শরীরকে সামাল দিতে অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি করতে হয়।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ক্ষতিকর চক্র
প্রতিদিন এভাবে রক্তে বারবার গ্লুকোজের মাত্রা বাড়লে শরীর একসময় ইনসুলিনের প্রতি সাড়া দেওয়া কমিয়ে দেয়। একেই বলা হয় 'ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স'। এর ফলে ক্লান্তি, মনযোগের অভাব (ব্রেইন ফগ), দ্রুত ওজন বাড়া, পেটে চর্বি জমা এবং শেষ পর্যন্ত টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রূপ নেয়।
তাছাড়া বিস্কুটগুলো এমনভাবে প্রক্রিয়াজাত (Ultra-processed) করা হয়, যা মস্তিষ্কে ডোপামিন বাড়িয়ে দেয়। ফলে চা-বিস্কুট খেলে ৬০ থেকে ৯০ মিনিটের মধ্যে গ্লুকোজ কমে আবার খিদে পায়, আর আমরা আবার বিস্কুট খাই। এভাবে আমরা অজান্তেই একটি ক্ষতিকর চক্রে আটকে পড়ি।
সুস্থ থাকতে যা করণীয়
এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে ডক্টর শর্মা অন্তত চার সপ্তাহের জন্য চা-বিস্কুটের অভ্যাস পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিস্কুটের বদলে সকালে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার বেছে নেওয়া উচিত। যেমন:
সকালের খাবার তালিকায় এই সামান্য পরিবর্তন আনলে প্রথম সপ্তাহেই বিকেলের ক্লান্তিভাব দূর হতে শুরু করবে। তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে ঘন ঘন খিদের অনুভুতি কমে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে মেটাবলিজম ও ইনসুলিনের কার্যকারিতা স্বাভাবিক হয়ে শরীর সুস্থ থাকবে।