

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বৃষ্টির দিনে কাঁথা মুড়ি দিয়ে একটা লম্বা ঘুম দেওয়ার অনুভূতি আমরা সবাই কম-বেশি উপভোগ করি। এটি কিন্তু কেবল আমাদের অলসতা নয়, এর পেছনে রয়েছে খাঁটি বিজ্ঞান। আমাদের শরীর ও মনের ওপর প্রকৃতির কিছু চমৎকার প্রভাবের কারণেই বৃষ্টির দিনে এত ঘুম পায়।
ঠিক কী কী কারণে এমনটা হয়, চলুন জেনে নেওয়া যাক:
১. আলোর স্বল্পতা ও মেলাটোনিনের প্রভাব
আমাদের জেগে থাকা বা ঘুমিয়ে থাকা নিয়ন্ত্রণ করে শরীরের ভেতরের একটি ঘড়ি, যাকে ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বলা হয়। রোদ থাকলে শরীর বোঝে এখন জেগে থাকার সময়।
কিন্তু বৃষ্টির দিনে মেঘের কারণে চারপাশ অন্ধকার হয়ে থাকে। এই কম আলোর কারণে মস্তিষ্ক ধরে নেয় এখন রাতের বেলা এবং সে অনুযায়ী 'মেলাটোনিন' (Melatonin) নামের ঘুমের হরমোন তৈরি করতে শুরু করে। ফলে শরীরজুড়ে ক্লান্তি ও ঘুম নেমে আসে।
২. আরামদায়ক তাপমাত্রা
ঘুম আসার জন্য আমাদের শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়া প্রয়োজন। বৃষ্টির সময় বাইরের তাপমাত্রা হুট করে কমে গিয়ে চারপাশ বেশ ঠান্ডা ও শীতল হয়ে ওঠে। এই মনোরম আবহাওয়া আমাদের শরীরকে দ্রুত শিথিল (relax) হতে সাহায্য করে, যা খুব সহজেই আমাদের ঘুমের কোলে ঢলে পড়তে বাধ্য করে।
৩. বৃষ্টির শব্দের প্রভাব
বৃষ্টির একটানা টুপটাপ শব্দকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘হোয়াইট নয়েজ’ (White Noise)। এটি মূলত এমন এক ধরনের শব্দ যা চারপাশের অন্য সব কর্কশ বা বিরক্তিকর আওয়াজকে ঢেকে দেয়।
এই মৃদু ও ছন্দময় শব্দ আমাদের মস্তিষ্ককে শান্ত করে এবং এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি দেয়, যা ভালো ঘুমের জন্য একদম আদর্শ।
৪. বায়ুচাপ ও অক্সিজেনের তারতম্য
বৃষ্টির সময় বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায় এবং বায়ুমণ্ডলের চাপ কমে যায়। একই সাথে বাতাসে নেগেটিভ আয়নের পরিমাণ বাড়ে, যা আমাদের শরীরে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়িয়ে দিয়ে মানসিক চাপ দূর করে। স্নায়ুতন্ত্রের এই পরিবর্তনের কারণে শরীর বেশ হালকা লাগে এবং এক ধরনের অলস ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হয়।
বৃষ্টির দিনের নরম আলো, শীতল হাওয়া, আর জানলার পাশের ছন্দময় শব্দ- সব মিলে আমাদের শরীর ও মনকে চারপাশ থেকে ঘুমের এক মায়াবী সংকেত পাঠাতে থাকে। তাই বৃষ্টির দিনে বিছানা ছেড়ে উঠতে না চাওয়াটা একদমই স্বাভাবিক ও বৈজ্ঞানিক!
