

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


খেলার মাঠে ফুটবলারদের মুখে পানি বা রঙিন পানীয় নিয়ে কুলি করে ফেলে দেওয়ার দৃশ্যটি আমরা প্রায়ই দেখি। প্রথম দেখায় এটিকে পানি অপচয় বা অদ্ভুত অভ্যাস মনে হতে পারে।
কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে আছে ক্রীড়াবিজ্ঞানের (Sports Science) একটি দারুণ বৈজ্ঞানিক কৌশল, যার নাম ‘কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স’ (Carbohydrate Mouth Rinse)।
এই কৌশলটি আসলে কী?
খেলার মাঝপথে ফুটবলার, ম্যারাথন দৌড়বিদ বা সাইক্লিস্টরা কার্বোহাইড্রেট বা চিনিযুক্ত কোনো স্পোর্টস ড্রিংক মুখে নেন। এরপর তা গিলে না ফেলে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড মুখে রেখে কুলি করে মাঠেই ফেলে দেন।
মস্তিষ্ককে ফাঁকি দেওয়ার বৈজ্ঞানিক খেলা
আমাদের মুখে এমন কিছু বিশেষ ‘রিসেপ্টর’ বা স্নায়ু আছে, যা কার্বোহাইড্রেটের উপস্থিতি টের পায়। যখনই মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় মুখে নেওয়া হয়, তখনই এই রিসেপ্টরগুলো সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কে একটি ইতিবাচক সংকেত পাঠায়।
মস্তিষ্ক মনে করে শরীরে বুঝি নতুন শক্তির (Energy) জোগান আসছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে কোনো শক্তি শরীরে প্রবেশ না করলেও, মস্তিষ্ক সতেজ হয়ে ওঠে।
এটি খেলোয়াড়ের ক্লান্তিভাব কমিয়ে সাময়িকভাবে তার মনোযোগ, সতর্কতা এবং কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
পানীয়টি গিলে না ফেলার কারণ
খেলোয়াড়েরা চাইলে তো পানীয়টি গিলে ফেলতেও পারতেন, কিন্তু তারা তা করেন না দুটি মূল কারণে:
পেটের অস্বস্তি এড়ানো: তীব্র দৌড়ঝাঁপের মধ্যে তরল খাবার পেটে গেলে পেট ভারী লাগতে পারে, এমনকি বমি ভাব বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।
সময়ের সাশ্রয়: পানীয় গিলে ফেললে তা হজম হয়ে রক্তে মিশে শক্তি জোগাতে বেশ কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু মুখে নিয়ে কুলি করলে মস্তিষ্কে সেই সংকেত পৌঁছায় চোখের পলকে।
এটি কি পানির বিকল্প?
একেবারেই নয়। এই পদ্ধতিটি কেবল ক্লান্তি দূর করার একটি তাৎক্ষণিক কৌশল মাত্র। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে যে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়, তার ঘাটতি মেটাতে খেলোয়াড়দের পানি বা ইলেকট্রোলাইট পানীয় খেতেই হয়। এজন্য তারা ম্যাচ শুরুর আগে, হাফ-টাইমে বা নির্ধারিত 'হাইড্রেশন ব্রেকে' পর্যাপ্ত পানি পান করেন।
সাধারণ মানুষের কি এটি প্রয়োজন আছে?
এই কৌশলটি কেবল উচ্চমাত্রার পরিশ্রম বা দীর্ঘ সময়ের পেশাদার খেলাধুলার জন্যই কার্যকর। ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বা হ্যারি কেইনদের মতো তারকাদের এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে দেখার পর এটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে।
তবে সাধারণ হাঁটাচলা, হালকা ব্যায়াম বা দৈনন্দিন কাজের জন্য এর কোনো প্রয়োজন নেই।
মাঠে খেলোয়াড়দের পানি ফেলে দিতে দেখলে এখন আর অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটি কোনো অপচয় নয়, বরং বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মাঠে সেরা পারফরম্যান্স ধরে রাখার একটি দারুণ কৌশল।
