

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতির ফলে এখন ল্যাবরেটরিতেই রক্তের কোষ থেকে তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে প্রাথমিক স্তরের ডিম্বাণু।
আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার ‘কনসেপশন’ নামের একটি বায়োটেকনোলজি সংস্থা স্টেম সেল প্রযুক্তির মাধ্যমে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ইন ভিট্রো গ্যামেটোজেনেসিস’ (IVG)।
কীভাবে তৈরি হয় রক্তের কোষ থেকে ডিম্বাণু?
বিজ্ঞানীরা মানুষের শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করে তা ল্যাবরেটরিতে বিশেষ উপায়ে 'প্লুরিপোটেন্ট স্টেম কোষে' (যা থেকে শরীরের যেকোনো কোষ তৈরি করা সম্ভব) রূপান্তরিত করেন।
এরপর বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই স্টেম কোষগুলোকে ‘প্রাইমরডিয়াল জার্ম সেল’-এ পরিণত করা হয়, যা থেকে মূলত শুক্রাণু বা ডিম্বাণু তৈরি হয়। এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা মানুষের রক্তের কোষ ব্যবহার করে সফলভাবে প্রাথমিক স্তরের ডিম্বাণু তৈরি করতে পেরেছেন।
ছবি সংগৃহীত
চিকিৎসা ক্ষেত্রে সুবিধা
এই আবিষ্কার সফলভাবে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে, বিশেষ করে বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণে এক নতুন সূচনা হবে। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
আইভিএফ (IVF) পদ্ধতি হবে সহজ ও ব্যথাহীন: বর্তমানে টেস্টটিউব বেবি বা আইভিএফ চিকিৎসার জন্য নারীদের শরীর থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা বেশ কষ্টদায়ক।
এর জন্য দিনের পর দিন হরমোন ইনজেকশন নিতে হয়, যার অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। রক্তের কোষ থেকে ডিম্বাণু তৈরি করা গেলে এই কষ্টদায়ক ইনজেকশন বা অস্ত্রোপচারের আর কোনো প্রয়োজন হবে না।
বেশি বয়সে নিরাপদ মাতৃত্ব: সাধারণত বয়স ৩০ পার হওয়ার পর নারীদের ডিম্বাণুর গুণগত মান কমতে থাকে এবং ৪০-এর পর গর্ভধারণ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
কিন্তু এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকেই নতুন ও সুস্থ ডিম্বাণু তৈরি করা যাবে। ফলে বেশি বয়সেও মা হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।
ক্যানসার জয়ীদের সুবিধা: ক্যানসার চিকিৎসার কেমোথেরাপী বা রেডিওথেরাপির কারণে অনেক নারীর প্রজনন ক্ষমতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়।
এই নতুন প্রযুক্তির ফলে ক্যানসার আক্রান্ত বা ক্যানসার জয়ী নারীরাও নিজেদের রক্ত ব্যবহার করে মাতৃত্বের স্বাদ পেতে পারেন।
বারবার গর্ভপাত রোধ: অনেক সময় ডিম্বাণুর ক্রোমোজোমে ত্রুটি থাকার কারণে ভ্রূণ ঠিকমতো বাড়তে পারে না এবং বারবার গর্ভপাত (Miscarriage) হয়। রক্তের কোষ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও উর্বর ডিম্বাণু তৈরি করা সম্ভব হলে গর্ভপাতের এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।
এই আবিষ্কারের মানে কিন্তু এই না যে সন্তান জন্মদানে পুরুষ বা নারীর প্রয়োজনীয়তা নেই। বরং বিজ্ঞানের এই আধুনিক আবিষ্কার মূলত বন্ধ্যাত্বের চিরতরে অবসান ঘটাতে এবং মায়েদের মাতৃত্বকালীন ঝুঁকি কমিয়ে একটি সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতেই সাহায্য করবে।
সুত্র : আনন্দবাজার.কম
