সোমবার
০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে ১০ লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন কেউ আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে

এনপিবিনিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
ছবি: এআই জেনারেটেড
expand
ছবি: এআই জেনারেটেড

কাউকে মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় গ্যাসলাইটিং বলা হয়। গ্যাসলাইটিং হলো এক ধরনের অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ক্ষতিকর মানসিক নির্যাতন। যখন কেউ বারবার আপনার স্মৃতি, অনুভূতি বা বিচারবুদ্ধি নিয়েই আপনার মনে সন্দেহ তৈরি করে, তখন তাকে গ্যাসলাইটিং বলা হয়।

সহজ কথায়, এটি এমন এক কৌশল যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আপনাকে বিভ্রান্ত করে আপনার নিজের ওপর থেকেই আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়।

নিচে গ্যাসলাইটিংয়ের প্রধান ১০টি লক্ষণ এবং এর থেকে বাঁচার উপায়গুলো সহজভাবে প্যারা আকারে সাজিয়ে দেওয়া হলো:

গ্যাসলাইটিংয়ের ১০টি সাধারণ লক্ষণ

১. ভুল স্বীকার না করা: তারা কখনো নিজেদের ভুল বা অন্যায় আচরণের দায়িত্ব নেন না। স্পষ্ট প্রমাণ থাকলেও ক্ষমা চাওয়ার বদলে বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যান।

২. বাস্তব ঘটনা অস্বীকার করা: কোনো একটি ঘটনা চোখের সামনে ঘটেছে- এমন প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তারা সরাসরি দাবি করবেন যে এমন কিছুই ঘটেনি বা আপনি ভুল দেখছেন বা মনে রাখছেন।

৩. সরাসরি উত্তর না দেওয়া: যেকোনো সহজ ও সোজা প্রশ্নের জবাবে তারা দীর্ঘ ও অপ্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা দেন, যেন মূল বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।

৪. প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দেওয়া: আপনি যখন তাদের কোনো ভুল নিয়ে কথা বলতে যাবেন, তারা আলোচনার মোড় ঘোরাতে হুট করে একদম ভিন্ন কোনো প্রসঙ্গ টেনে আনবেন।

৫. অনুভূতিকে তুচ্ছ করা: আপনার কষ্ট বা আবেগকে তারা একদমই গুরুত্ব দিতে চান না। প্রায়ই বলেন-‘তুমি বেশি ভাবছ’, ‘অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে যাচ্ছ’ বা ‘এত বাড়িয়ে দেখার কিছু নেই’।

৬. উল্টো আপনাকেই দোষী বানানো: নিজের দোষ বা ভুলের দায় আপনার ওপর চাপিয়ে দিয়ে তারা এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেন, যেন মনে হয় ভুক্তভোগী তারা নিজেই।

৭. অভিযোগের তীর আপনার দিকে ফেরানো: তারা নিজেরা যে খারাপ আচরণটি করেছেন, সেটির জন্য উল্টো আপনাকে দায়ী করবেন। ফলে আপনি নিজের দোষ ঢাকতে বা আত্মপক্ষ সমর্থনেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

৮. একা বা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া: পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের থেকে আপনাকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। এর উদ্দেশ্য হলো, বিপদে পড়লে আপনি যেন অন্য কারও মানসিক সমর্থন না পান।

৯. বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা: অন্যদের কাছে আপনার নামে নেতিবাচক কথা বলেন বা আপনাকে 'অস্থির' হিসেবে তুলে ধরেন, যাতে সমাজে আপনার কথার কোনো গুরুত্ব না থাকে।

১০. সবসময় আতঙ্কে রাখা: তাদের আচরণ এমন রূপ নেয় যে, আপনি প্রতিটি কথা বা কাজের আগে ভয় পাবেন। সবসময় মনে হবে ‘ডিমের খোসার ওপর দিয়ে হাঁটছেন’- যেকোনো সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে।

এর প্রভাব ও মুক্তির উপায়

দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলে মানুষের আত্মবিশ্বাস ভেঙে চূর্ণ হয়ে যায়, মানসিক উদ্বেগ (Anxiety) বাড়ে এবং ব্যক্তি নিজের বিচারবুদ্ধির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন। এই ক্ষতিকর পরিস্থিতি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে

বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ:

প্রমাণ রাখুন: যেকোনো ঘটনা, মেসেজ বা কথোপকথন লিখে বা স্ক্রিনশট দিয়ে রাখুন, যাতে নিজের স্মৃতির ওপর সন্দেহ তৈরি হলে তা দেখে নিশ্চিত হতে পারেন।

বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে শেয়ার করুন: কাছের কোনো বন্ধু বা পরিবারের নির্ভরযোগ্য সদস্যের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলুন, যারা আপনাকে মানসিকভাবে শক্তি জোগাবে।

পেশাদার সাহায্য নিন: পরিস্থিতি জটিল হলে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সিলরের পরামর্শ নিন।

নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন: যদি দেখা যায় পরিস্থিতি কোনোভাবেই বদলাচ্ছে না এবং এটি আপনার মানসিক শান্তি পুরোপুরি নষ্ট করছে, তবে সেই সম্পর্ক বা কর্মক্ষেত্র থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Portugal VS Spain
Scheduled
07 Jul, 01:00 AM
VS
World Cup