

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কেনাকাটার পর "ইস! কেন কিনলাম, ঠকে গেলাম না তো?"- এই আফসোস বা অনুশোচনা আমাদের অনেকেরই চেনা। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'বায়ার্স রিমোরস' (Buyer's Remorse) বা 'কগনিটিভ ডিসোন্যান্স'।
কেনাকাটার পর কেন এই আফসোস হয়?
দোকানে যে জিনিসটা দেখে দারুণ লেগেছিল, বাড়ি ফিরতেই সেটা নিয়ে মন খারাপ হওয়ার পেছনে কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ আছে:
বিকল্পের ভিড়: কেনার আগে আমরা অনেক অপশন দেখি। একটা বেছে নেওয়ার পর মনে হয়, "ইশ! অন্যটা নিলেই হয়তো বেশি ভালো হতো।"
ডোপামিনের প্রভাব: পছন্দসই জিনিস দেখার সময় আমাদের মস্তিষ্কে 'ডোপামিন' হরমোন নিঃসরণ হয়, যা সাময়িক আনন্দ দেয়।
কিন্তু বাড়ি ফেরার পর যখন সেই উত্তেজনার রেশ কেটে যায়, তখনই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে আফসোস শুরু হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব: কেনার পর ফেসবুকে বা বন্ধুদের কাছে এর চেয়ে ভালো বা কম দামের কোনো জিনিস দেখলেই নিজের সিদ্ধান্তের ওপর সন্দেহ জাগে।
পকেটের টান: সাধ পূরণ করতে গিয়ে বাজেট পার হয়ে গেলে, ভবিষ্যতের খরচের কথা ভেবে একটা অপরাধবোধ বা মানসিক চাপ তৈরি হয়।
এটি কি কোনো মানসিক রোগ?
সহজ উত্তর হলো- না। মাঝে মাঝে এমন অনুশোচনা হওয়া একদম স্বাভাবিক।
তবে, যদি প্রতিবার কেনাকাটার পরই আপনার তীব্র অপরাধবোধ হয়, সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অতিরিক্ত ভয় বা প্যানিক অ্যাটাক হয়, এবং এই চিন্তা আপনার দৈনন্দিন জীবন ও মানসিক শান্তি নষ্ট করে- তাহলে এটি অতিরিক্ত উদ্বেগ (Anxiety) বা পারফেকশনিজমের লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
এই আফসোস থেকে বাঁচার ৫টি সহজ উপায়
১. দাম ও মান যাচাই করুন
কেনার আগেই অনলাইন বা অন্য দোকানে দামের একটা আইডিয়া নিয়ে রাখুন। ঝোঁকের মাথায় হুট করে না কিনে পণ্যের ব্র্যান্ড, গুণগত মান, মেয়াদ এবং ওয়ারেন্টি ভালোভাবে দেখে নিন।
২. বিক্রেতার কৌশল বুঝুন
বাজারে একটি বহুল প্রচলিত কৌশল হলো 'ফুট-ইন-দ্য-ডোর' (Foot-in-the-door)। বিক্রেতারা প্রথমে আপনাকে একটা কম দামি বা আকর্ষণীয় অফার দেখিয়ে দোকানে টানবে, তারপর ধাপে ধাপে আরও দামি জিনিস কিনতে উৎসাহিত করবে। শুধু অফার বা ডিসকাউন্ট দেখে পা না বাড়িয়ে, পুরো বাজেট মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিন।
৩. নিজের সিদ্ধান্তকে সম্মান করুন
পৃথিবীতে কোনো সিদ্ধান্তই শতভাগ নিখুঁত নয়। তাই কেনার পর বারবার খুঁত না খুঁজে ভাবুন- জিনিসটি আপনার প্রয়োজন মেটাচ্ছে কি না।
৪. তুলনা করা বন্ধ করুন
কে কত কম দামে কিনলো বা কারটা বেশি সুন্দর- এই তুলনা বাদ দিন। আপনার বাজেট এবং আপনার পছন্দের ওপর ভরসা রাখুন।
৫. ২৪ ঘণ্টার নিয়ম
খুব দামি বা বিলাসী কোনো জিনিস পছন্দ হলে সাথে সাথেই না কিনে নিজেকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিন। একদিন পর যদি মনে হয় জিনিসটি আসলেই দরকার, তবেই কিনুন। এতে আবেগের বশে ভুল কেনাকাটা অনেক কমে যায়।
কেনাকাটার পর একটু-আধটু খটকা লাগা বা ঠকে যাওয়ার ভয় পাওয়া কোনো মানসিক রোগ নয়, এটি মানুষের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। সচেতনভাবে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিলে এবং অন্যের সাথে তুলনা না করলে এই অনুশোচনা থেকে সহজেই মুক্ত থাকা সম্ভব।
