

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ডিম আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এক অপরিহার্য নাম। তবে পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ থাকতে ডিম খাওয়ার সময় কিছু খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। কারণ ভুল খাবারের সংমিশ্রণ ডিমের পুষ্টিগুণ তো নষ্ট করেই, সেই সাথে গ্যাস, বদহজমসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
১. উচ্চ প্রোটিন ও ফ্যাটযুক্ত খাবার (হজমের সমস্যায়)
ডিম নিজেই প্রোটিনের একটি বড় উৎস। এর সাথে আরও কিছু উচ্চ প্রোটিন বা চর্বিযুক্ত খাবার যোগ করলে পরিপাকতন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে:
মাংস বা মাছ: ডিম ও মাংস/মাছ একসাথে খেলে শরীরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন প্রবেশ করে, যা হজম করা কঠিন এবং ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
পনির (Cheese): পনিরে প্রচুর প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে। ডিমের সাথে এটি খেলে পেট ভারী হয়ে যাওয়া এবং ক্যালোরি বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ভাজাভুজি (ডিপ ফ্রাই): তেলের ভাজা খাবারের সাথে ডিম খেলে হজমে মারাত্মক গোলমাল হয়। এটি শরীরকে ক্লান্ত করে দেয় এবং কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
২. পানীয় ও দুগ্ধজাত খাবার (গ্যাস ও বদহজমে)
চা বা কফি: ডিম খাওয়ার পরপরই বা একসাথে চা-কফি খাওয়া একদমই উচিত নয়। এটি গ্যাস ও অ্যাসিডিটি তৈরি করে, এমনকি বমিও হতে পারে। ডিম খাওয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা পরে চা-কফি খাওয়া নিরাপদ।
সয়া মিল্ক (সয়াবিনের দুধ): যেকোনো দুগ্ধজাত বা সয়া জাতীয় উপাদানের সাথে ডিম খেলে পেট খারাপ এবং অন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩. সকালের সাধারণ কিছু খাবার (যা একসাথে খাওয়া বারণ)
কলা: ব্রেকফাস্টে ডিম ও কলা একসাথে খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু ডিমের প্রোটিন এবং কলার পটাসিয়াম একসাথে মিশলে পেট অতিরিক্ত ভারী হয়ে যায় এবং হজমে সমস্যা তৈরি করে। তাই দুটি খাবার আলাদা সময়ে খাওয়া ভালো।
মিষ্টি জাতীয় খাবার: ডিমের সাথে মিষ্টি খাবার খেলে রক্ত চলাচলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হার্টের রোগীদের জন্য এই সংমিশ্রণটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
৪. ওষুধ ও পুষ্টি উপাদান শোষণ বাধাগ্রস্ত হওয়া
আয়রন সাপ্লিমেন্ট: ডিম খাওয়ার পরপরই কোনো ওষুধ, বিশেষ করে আয়রন বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট খাওয়া ঠিক নয়।
ডিমের ক্যালসিয়াম শরীরের আয়রন শোষণে বাধা দেয়, ফলে ওষুধের কোনো কার্যকারিতা থাকে না এবং উল্টো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।
ডিমের পূর্ণ পুষ্টি পেতে এবং সুস্থ থাকতে এটিকে যতটা সম্ভব সাধারণ উপায়ে (যেমন: সেদ্ধ বা অল্প তেলে পোচ) খাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
