

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ও জনপ্রিয় চিকিৎসক দম্পতি ডা. সুষমা রেজা ও ডা. সায়েদুল আশরাফ কুশল তাদের প্রায় দুই দশকের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন। পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুষমা রেজা।
শনিবার (২৭ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, দীর্ঘ চিন্তা-ভাবনা ও আত্মসমালোচনার পর তারা দুজন পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বৈবাহিক সম্পর্কের সমাপ্তি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সিদ্ধান্তের কথাই সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চেয়েছেন তারা।
পোস্টে ডা. সুষমা রেজা লিখেছেন, এতদিন যারা তাদের ভালোবেসেছেন এবং পথচলার সঙ্গী হয়েছেন, তাদের অনেকের কাছেই এই সংবাদ কষ্ট, বিস্ময় কিংবা নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। তবে সেই ভালোবাসা ও আস্থার প্রতি সম্মান রেখেই তারা চেয়েছেন, অন্য কোনো সূত্র থেকে নয়, বরং তাদের দুজনের কাছ থেকেই সবাই বিষয়টি জানুক। জীবনের নতুন অধ্যায়ে সবার দোয়া কামনা করেছেন তিনি।
খুব অল্প বয়সে তাদের একসঙ্গে পথচলা শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেখতে দেখতে প্রায় দুই দশক কেটে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে তারা একটি পরিবার গড়েছেন, সন্তানদের বড় হতে দেখেছেন এবং জীবনের অসংখ্য সুখ-দুঃখ, অর্জন, সংগ্রাম ও স্মৃতি একসঙ্গে বহন করেছেন। সেই স্মৃতিগুলো তাদের জীবনের অমূল্য অংশ হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. সুষমা রেজা লিখেছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা উপলব্ধি করেছেন যে তাদের সম্পর্ক আর সেই জায়গায় নেই, যেখান থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে তারা যেমন বদলেছেন, তেমনি বদলেছে সম্পর্কও। একপর্যায়ে তারা বুঝতে পেরেছেন, জীবনের এই পর্যায়ে শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হয়ে যাওয়াই দুজনের জন্য সবচেয়ে সম্মানজনক সিদ্ধান্ত।
দীর্ঘমেয়াদি যেকোনো সম্পর্কের মতো তাদের সম্পর্কেও আনন্দ, সংগ্রাম, সীমাবদ্ধতা এবং অসংখ্য আশীর্বাদ ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ যে মুহূর্তগুলো দেখেছে, সেগুলো কোনো নিখুঁত সম্পর্কের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা ছিল না; বরং ছিল তাদের জীবনের বাস্তব কিছু মুহূর্ত, যেগুলো তারা আন্তরিকভাবে বেঁচেছেন, ভালোবেসেছেন এবং সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।
পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ পথচলায় তারা যেভাবে পাশে থেকেছেন, সাহস জুগিয়েছেন, ভালোবেসেছেন এবং দোয়া করেছেন, তার জন্য তারা হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে ব্যক্তিগত ঘটনা মুহূর্তেই অসংখ্য মানুষের আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয় উল্লেখ করে ডা. সুষমা রেজা সবার প্রতি অনুরোধ জানান, তাদের জীবনের এই সময়টিকে অনুমান, গুজব কিংবা বিচার-বিশ্লেষণের বিষয় না করতে। তিনি বলেন, একটি ভাইরাল খবরের আড়ালে থাকে নানা বয়সের রক্ত-মাংসের মানুষ, যারা প্রত্যেকে অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও কঠিন এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই তাদের ব্যক্তিগত পরিসর ও মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ করে পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ করেন, সন্তানদের, বাবা-মা কিংবা ভাইবোনদের সামনে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা না করতে। কারণ এই পরিবর্তন তাদের প্রত্যেককে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তারা দুজন সময় নিয়ে ধীরে ধীরে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে যাদের তারা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন, তাদের অনেকের কাছেই এই বাস্তবতা এখনও নতুন, অপ্রস্তুত এবং বেদনাদায়ক। প্রত্যেকে নিজস্ব উপায়ে এই পরিবর্তনকে বোঝার, গ্রহণ করার এবং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে সবার সামান্য সহমর্মিতা, সংবেদনশীলতা ও সংযম তাদের প্রিয়জনদের পথচলা কিছুটা সহজ করে দিতে পারে।
প্রায় ২০ বছরের এই অধ্যায়ের সমাপ্তি তারা পরস্পরের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা এবং শান্ত গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই টানছেন বলেও জানান ডা. সুষমা রেজা।
পোস্টের শেষাংশে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে একটি বার্তাও দিয়েছেন তিনি। সেখানে তিনি লিখেছেন, নিজের পরিবারকে সময় দিতে হবে, প্রিয় মানুষগুলোর হাত শক্ত করে ধরে রাখতে হবে। কারণ জীবন খুবই ভঙ্গুর। আজকের সাধারণ ও নীরব মুহূর্তগুলোই একসময় জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিতে পরিণত হতে পারে। তাই প্রতিটি মুহূর্ত সচেতনতা, কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে বেঁচে থাকার আহ্বান জানান তিনি।