

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বছরের প্রায় সব সময়ই বাজারে সহজলভ্য ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কলা। এটি যেমন সুস্বাদু এবং সহজে হজমযোগ্য, তেমনি এর দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে।
পুষ্টিগুণে অনন্য এবং স্বাদে হালকা মিষ্টি হওয়ায় সকালের নাশতায়, ডেজার্টে কিংবা হালকা নাশতা হিসেবে কলা সবার পছন্দের শীর্ষে।
স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই নিয়মিত ফলটি খাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে অতি সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'টাইমস অব ইন্ডিয়া'-র একটি প্রতিবেদন ও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে যে, টানা ৪৫ দিন প্রতিদিন একটি করে কলা খেলে মানব শরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক স্বাস্থ্যগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
কলার পুষ্টি উপাদান:
ইউএসডিএ (USDA)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কলায় রয়েছে ৮৯ ক্যালোরি, ২২.৮০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২.৬০ গ্রাম ডায়েটারি ফাইবার, ১.০৯ গ্রাম প্রোটিন, ৩৫৮ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ০.৩৩ গ্রাম চর্বি, ১ মিলিগ্রাম সোডিয়াম এবং ০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল।
এছাড়াও কলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে।
টানা ৪৫ দিন কলা খেলে শরীরে যে পরিবর্তন ঘটে:
গবেষকদের মতে, নিয়মিত ৪৫ দিন খাদ্যতালিকায় একটি করে কলা রাখলে –
১. হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: কলাকে পটাশিয়ামের দারুণ উৎস বলা হয়। টানা ৪৫ দিন কলা খাওয়ার ফলে শরীরে পটাশিয়ামের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হয়।
এটি স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে, হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং ধমনীর ব্লকেজ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
২. হজমশক্তির উন্নতি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণ: প্রতি কলায় প্রায় ২.৬০ থেকে ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। নিয়মিত এটি গ্রহণের ফলে সামগ্রিক পরিপাকতন্ত্রের উন্নতি ঘটে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয় এবং পেটের বা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় থাকে।
৩. তাৎক্ষণিক শক্তির জোগান: কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা এবং কার্বোহাইড্রেট শরীরে দ্রুত ও তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহ করে। সহজে হজমযোগ্য হওয়ায় এটি শারীরিক ব্যায়াম বা ওয়ার্কআউটের আগে ও পরে শক্তির একটি দুর্দান্ত উৎস হিসেবে কাজ করে।
৪. মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ও মেজাজ প্রফুল্লতা: কলার ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সচল রাখে। এটি মস্তিষ্কে 'সেরোটোনিন' নামক হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করে মানুষের মেজাজ প্রফুল্ল রাখতে ও মন ভালো রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
৫. কোষের সুরক্ষা ও তরলের ভারসাম্য: কলার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে এবং কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করে। এছাড়াও ৪৫ দিনের এই নিয়মিত অভ্যাস শরীরে স্নায়বিক কার্যকারিতা এবং তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
এমনকি কলার খোসাতেও ফাইবার, পটাশিয়াম ও নানা ধরনের পলিফেনল যৌগ বিদ্যমান থাকে, যা কার্ডিওভাসকুলার সুরক্ষায় কাজ করে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও কিছু সতর্কতা:
কলার অনেক গুণ থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। যারা অতিরিক্ত ওজন কমাতে চাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে কলার বাড়তি ক্যালরি কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ এটি মোট ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
এছাড়া, যাদের উন্নত পর্যায়ের কিডনিজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কিডনি রোগীদের পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার সীমিত করা প্রয়োজন।
সুস্থ থাকতে এবং প্রতিদিনের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে খাদ্যতালিকায় একটি করে কলা যোগ করা একটি দারুণ অভ্যাস হতে পারে। তবে কোনো জটিল শারীরিক সমস্যা থাকলে বা খাদ্যতালিকায় বড় কোনো পরিবর্তন আনতে চাইলে প্রথমেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
