

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দিন দিন কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, যার প্রধান দুটি কারণ হলো ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ। কিডনি দুর্বল হয়ে পড়লে শরীরে পানি, লবণ, অ্যাসিড ও ক্রিয়েটিনিনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই কিডনির ওপর বাড়তি চাপ কমাতে খাবারের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা জরুরি।
বিশেষ করে লবণ, সোডিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম ও প্রাণিজ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার কিডনি রোগীদের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। নিচে একটি নির্দেশিকা দেওয়া হলো:
যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন বা সীমিত করবেন:
অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার: সাধারণ লবণ, প্যাকেটজাত চিপস, ফাস্টফুড এবং টিনজাত (ক্যান্ড) খাবার রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যা কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
লাল মাংস ও অর্গান মিট: গরু বা খাসির মাংস, কলিজা এবং অন্যান্য ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অতিরিক্ত খেলে শরীর থেকে বর্জ্য অপসারণ করা কিডনির জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডযুক্ত খাবার: শিমের বিচি, বরবটি, ছোলা, শুঁটকি মাছ, সামুদ্রিক মাছ এবং কলিজা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
কোমল পানীয়: গাঢ় রঙের সোডা বা কার্বনেটেড এনার্জি ড্রিংকসে প্রচুর ফসফরাস থাকে, যা ক্রনিক কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
উচ্চ পটাসিয়ামযুক্ত ফল: কিডনি দুর্বল হলে কলা, ডাবের পানি, কমলালেবু এবং শুকনো ফল শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাসিয়াম বের করতে পারে না। এর ফলে রক্তে পটাসিয়াম জমে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে।
দুগ্ধজাত খাবার: দুধ ও পনিরে উচ্চ মাত্রায় ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও ফসফরাস থাকে, যা কিডনি রোগীদের জন্য উপযুক্ত নয়।
যা খাওয়া যাবে
সবজি ও ফলের ক্ষেত্রে কিডনি রোগীদের কিছুটা বেছে চলতে হয়। আপনার জন্য নিরাপদ ও অনিরাপদ খাবারের একটি তুলনামূলক তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
ফলমূল
যা খাবেন: আপেল এবং পেয়ারা।
যা বর্জন করবেন: কমলা, তেঁতুল এবং অতিরিক্ত টক জাতীয় ফল। এছাড়া লেবু, মাল্টা ও আমলকীর মতো সাইট্রাস ফল খুব কম পরিমাণে খেতে হবে।
শাকসবজি
যা খাবেন: ডাঁটাশাক, হেলেঞ্চাশাক, কচুশাক, পেঁয়াজ, বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, ঢ্যাঁড়স, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, করলা, ব্রকলি, ফুলকপি এবং বিচি ছাড়া শসা।
যা বর্জন করবেন: লালশাক, ধনেপাতা, পালংশাক, মুলাশাক, পুঁইশাক এবং মুলা।
কিডনি রোগের ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী একেকজনের শরীরের পুষ্টির চাহিদা ভিন্ন হয়। তাই এই তালিকাটি অনুসরণের পাশাপাশি একজন বিশেষজ্ঞ ডায়েটিশিয়ান বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
