

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পতিত শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর বিষয়ে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডার জবাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মন্ত্রী গোলাম মোর্তজা। তিনি দাবি করেন, ‘হাসিনা পালিয়েছে। এবং যে কোনো বিবেচনায় তার এই দেশ ছাড়াটাকে পালানো বলে।’
সোমবার (১০ আগস্ট) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলিসহ বিভিন্ন জনের বক্তব্যের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।
শেখ হাসিনা ছদ্মবেশে বা রাতের আঁধারে পালাননি বরং দিনের আলোয় দেশ ছেড়েছেন বলে যারা দাবি করেন, তাদের উদ্দেশ করে তিনি পোস্টে বলেন, ‘পালানোর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সড়কে বের করে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। তারপর চুপিসারে গণভবন থেকে বেরিয়ে বাণিজ্য মেলার মাঠ থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকা বিমানবন্দর সংলগ্ন বিমান ঘাঁটিতে গেছে। গোপণে বিমান বাহিনীর উড়োজাহাজে দেশ ছেড়েছে। আকাশে উড়েই তার উড়োজাহাজ যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।’
গোলাম মোর্তজা বলেন, হাসিনা ঘোষণা দিয়ে হেলিকপ্টার বা উড়োজাহাজে ওঠে নাই। পালিয়ে- লুকিয়ে উঠেছে। এর আগে এভাবে কোনোদিন গণভবন থেকে বের হয় নাই। হ্যাঁ,সামরিক বাহিনীর একটি অংশ পালানোয় তাকে সহায়তা করেছে। চোর- ডাকাত বা সন্ত্রাসীরা যখন পালায়,তখন কিছু মানুষ তাদেরকে নানা কারণে গোপণে সহায়তা করে। মোমেন,হাছান মাহমুদ, ও.কাদের,বেনজীর,শামীম ওসমানদের পালানোতেও কেউ কেউ সহায়তা করেছে। পালানোতে সহায়তা করলেই বলা যায় না যে,তাকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে দেওয়া হয়েছে বা রেখে আসা হয়েছে।
‘হাসিনা পালায় নি বলা যেত, যদি ডামি গাড়িবহর বের করে ধোঁকা দেওয়া না হতো, যদি ঐ গাড়িবহর নিয়ে নিত্যদিনের মত বিমানবন্দর বা বিমান ঘাঁটিতে যেত বা যদি ঘোষণা দিয়ে বলা হতো, গণভবন থেকে হেলিকপ্টারে বিমান ঘাঁটিতে এবং সেখান থেকে উড়োজাহাজে চলে যাবে। এই সাহস হাসিনার ছিল না।’
সিরিয়ার বাশার আল আসাদ এবং নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি বিপ্লবের পর বিমান-হেলিকপ্টারে পলায়ন ও সামরিক বাহিনীর সহযোগীতা কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীর সহযোগীতায় হেলিকপ্টারে স্বৈরশাসকদের পালানোর বহু নজীর আছে। হাসিনার পালানোও তেমন একটি নজীর।
তিনি আরও বলেন, হাসিনার কল রেকর্ডে প্রমাণ রয়ে গেছে,স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে পালানোর যোগাযোগ সে নিজে করেছে। তাকে জয় বা রেহানা বুঝিয়েছে, ওমুক রাজি করিয়েছে, এটা স্রেফ প্রোপাগান্ডা।
পোস্টের শেষে তিনি জানান, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দর কষাকষির শর্ত হিসেবেও যদি হাসিনাকে দেশ ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো বলা যেত যে সে পালায় নি। হাসিনার ক্ষেত্রে তা হয় নি। বরং আন্দোলনকারীদের ভয়ে সামরিক বাহিনীর সহায়তা নিয়ে হাসিনা পালিয়েছে।