

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে অনলাইনে শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষায় ‘সেফ পার্টিসিপেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ বা নিরাপদ অংশগ্রহণ কাঠামো উন্মোচন করেছে মাইক্রোসফট।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ কাঠামো প্রকাশ করে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিটি।
এক বিবৃতিতে মাইক্রোসফট বলেছে, ‘শিশু ও পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা এবং প্রযুক্তি যে সুযোগ তৈরি করতে পারে—এই দুটির মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে বাধ্য হওয়া উচিত নয়।’
নতুন এই কাঠামো তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তৈরি—নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নকশা, বয়সভিত্তিক অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন।
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নকশার লক্ষ্য হলো পণ্য তৈরির শুরু থেকেই সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা, পণ্যের বিভিন্ন ফিচারের প্রভাব মূল্যায়ন করা এবং ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী উপযুক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বয়সভিত্তিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে এখন মাইক্রোসফটের এআই সহকারী ‘কোপাইলট’ ব্যবহার করতে সব ব্যবহারকারীকে সাইন ইন করতে হবে। ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কোপাইলটে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। স্থানীয় আইনে বয়সসীমা বেশি হলে সেই বয়সসীমাও প্রযোজ্য হবে।
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ক্ষতিকর কনটেন্টের সংস্পর্শে আসা কমাতে তারা বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু করেছে। পাশাপাশি আত্মহানির ঝুঁকি শনাক্ত হলে ব্যবহারকারীদের সংকটকালীন সহায়তার বিভিন্ন উৎসের দিকে নির্দেশ দেওয়া হবে। বিরতি নেওয়ার পরামর্শ, রিপোর্ট করার সুবিধা এবং বিভ্রান্তিকর বা বাস্তবতাবিচ্ছিন্ন এআই আউটপুটের বিরুদ্ধে সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রযুক্তির স্বাস্থ্যকর ব্যবহারেও উৎসাহ দেওয়া হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাইক্রোসফটের সার্চ ইঞ্জিন বিং-এর জেনারেটিভ এআই সেবাগুলোতে শিশু যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত উপকরণ (CSAM) শনাক্ত ও প্রতিরোধে সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী ‘সেফসার্চ’ ফিচার সম্প্রসারণ করে ক্ষতিকর কনটেন্টের আরও কিছু শ্রেণিকে এর আওতায় আনা হয়েছে।
এ ছাড়া মাইক্রোসফট ‘উইন্ডোজ এজ’ অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) চালু করেছে। এটি ডেভেলপারদের গোপনীয়তা-সুরক্ষিত বয়সসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করবে, যাতে তারা ব্যবহারকারীর প্রয়োজনীয় বয়স উপযোগী অভিজ্ঞতা দিতে পারেন। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বা শেয়ার করার প্রয়োজন হবে না।
মাইক্রোসফট জোর দিয়ে বলেছে, শুধু প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ ডিজিটাল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই আগামী এক বছরে গবেষক, এআই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান, সরকার এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র: আনাদুলু এজেন্সি



