

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি সাজা ভোগ শেষ করার পর তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগার থেকে খালাস পাবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটায় শুরু হওয়া অধিবেশনে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদা জানতে চান, বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্ত অনেক সদস্য সাজা ভোগ করে বের হওয়ার পরও আওয়ামী লীগ আমলের মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের হয়রানি বন্ধে মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না এবং সাজা শেষ হওয়া বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্তদের দ্রুত খালাসের পরিকল্পনা আছে কি না?
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিডিআর বিদ্রোহ সংক্রান্ত মামলাসমূহ ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতের সুনির্দিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি সাজা ভোগ করার পর তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা থাকলে তা যথাযথ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধুমাত্র পরিচয়, পূর্ববর্তী সাজা বা রাজনৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে কেউ যেন কোনো প্রকার অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সে লক্ষ্যে পুলিশকে স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি আইনবহির্ভূত বা উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়রানি, মিথ্যা মামলা কিংবা কোনো অযৌক্তিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তবে সেই সংক্রান্ত প্রাপ্ত অভিযোগের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিবিড়ভাবে যাচাই করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির সাজা ভোগ শেষ হলে তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে যথাযথ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি কারাগার থেকে খালাস প্রাপ্ত হন।
অন্যদিকে গাইবান্ধা-৫ সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছ জানতে চান, ২০০৯ সালে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআরের একটি বিদ্রোহী গ্রুপ কর্তৃক সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিচারে নিরাপরাধ যেসব বিডিআর সদস্যদের চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে তাদেরকে আবার বিজিবিতে চাকুরি দেওয়া হবে কিনা?
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কোনো নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকুরিচ্যুত করা হয়নি বিধায় বর্ণিত চাকুরিচ্যুত সদস্যদের চাকুরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় সংঘটিত বিদ্রোহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন বিডিআরের আইন/বিধি মোতাবেক গঠিত বিভাগীয় স্পেশাল কোর্টের মাধ্যমে ও প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট বিডিআর সদস্যদের বিভিন্ন ইউনিট কর্তৃক গঠিত তদন্ত পর্ষদের মাধ্যমে শনাক্তকরণ শেষে ৬ হাজার ২৮৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকুরি থেকে বরখাস্ত (বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডসহ) এবং প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ২ হাজার ৫১০ জন বিডিআর সদস্যকে পেনশন সুবিধাসহ চাকুরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সর্বমোট ৮ হাজার ৭৯৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। বর্ণিত শাস্তি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে বিচারের মাধ্যমে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করার পরে দেওয়া হয়েছে। কোনো নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকুরিচ্যুত করা হয়নি। বিধায় বর্ণিত চাকুরিচ্যুত সদস্যদের চাকুরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে বর্ণিত চাকুরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের মধ্য থেকে ৮৫০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং ৮৩৪ জন সদস্যের বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করা হয়।
উল্লেখ্য, হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত কর্তৃক অভিযুক্ত বিডিআর সদস্যদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে, যার দরুন বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল চলমান রয়েছে। এ ছাড়া, বিস্ফোরক মামলায় ৮৩৪ জন বিডিআর সদস্যের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে বর্তমানে বিচারকার্য চলমান রয়েছে। এমতাবস্থায়, বর্ণিত বিডিআর সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকায় উক্ত মামলা দুইটিতে আসামিভুক্ত চাকুরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকুরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই।

