


সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর (পে-স্কেল) গেজেট প্রকাশ নিয়ে আবারও তৈরি হয়েছে অপেক্ষা। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সামনে থাকায় দিনভর গেজেটের অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে যে কোনো সময় গেজেট প্রকাশ হতে পারে।
তবে আজ ঠিক কখন গেজেট প্রকাশ হবে, কিংবা শেষ পর্যন্ত আজই তা জারি হবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবশ্য গেজেট প্রকাশের বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন।
নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে এর আগেও কয়েক দফা সময়ের কথা বলা হয়েছিল। তবে সেসব সময়ে তা প্রকাশিত হয়নি। এবার ১০ সেপ্টেম্বরকে ঘিরে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলের খসড়া তৈরির পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে খসড়াটির ভেটিংও শেষ হয়েছে। এখন প্রজ্ঞাপন জারির আগে শেষ মুহূর্তের কিছু আনুষ্ঠানিকতা চলছে।
সব প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার দিনের যেকোনো সময় নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে। এ কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের নজর এখন অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের (বিজি প্রেস) কার্যক্রমের দিকে।
প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলে মোট ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। এতে বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন, ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির পদ্ধতি, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা থাকার কথা।
নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে বর্ধিত মূল বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধাতেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর এসব বিষয়ে চূড়ান্ত ও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় তুলনামূলকভাবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০তম গ্রেডের বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
তবে নতুন মূল বেতনের পুরোটা একসঙ্গে কার্যকর হবে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই তিন ধাপে বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের ৫০ শতাংশ প্রথম ধাপে, ২৫ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি ২৫ শতাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। আর প্রথম থেকে নবম গ্রেডে বর্ধিত অংশের ৪০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ হারে তিন ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হতে পারে। দ্বিতীয় গ্রেডে ৬৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার, তৃতীয় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার এবং চতুর্থ গ্রেডে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা হতে পারে।
পঞ্চম গ্রেডে ৪৩ হাজার থেকে ৮৬ হাজার, ষষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৭১ হাজার, সপ্তম গ্রেডে ২৯ হাজার থেকে ৫৮ হাজার এবং অষ্টম গ্রেডে ২৩ হাজার থেকে ৪৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
নবম গ্রেডে ২২ হাজার থেকে ৪৪ হাজার এবং দশম গ্রেডে ১৬ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা হতে পারে মূল বেতন।
এ ছাড়া ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার, ১২তম গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৪ হাজার ৩০০, ১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার থেকে ২৪ হাজার এবং ১৪তম গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
১৫তম গ্রেডে ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২২ হাজার ৮০০, ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৪০০, ১৮তম গ্রেডে ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার, ১৯তম গ্রেডে ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০ এবং ২০তম গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রথম গ্রেডে বর্তমান ৭৮ হাজার টাকা থেকে প্রস্তাবিত ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হলে তিন ধাপে মূল বেতন দাঁড়াতে পারে যথাক্রমে ১ লাখ ৯ হাজার ২০০, ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ এবং ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
২০তম গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা হলে তিন ধাপে বেতন দাঁড়াতে পারে যথাক্রমে ১২ হাজার ৯৫০, ১৬ হাজার ৪৭৫ এবং ২০ হাজার টাকা।
নবম গ্রেডে ২২ হাজার টাকা থেকে ৪৪ হাজার টাকা হলে তিন ধাপে তা দাঁড়াবে ৩০ হাজার ৮০০, ৩৭ হাজার ৪০০ এবং ৪৪ হাজার টাকা।
নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন বাড়লেও সব ধরনের ভাতা একই সময়ে নতুন হারে কার্যকর নাও হতে পারে। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা নতুন কাঠামোয় ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এসব বিষয় এখনো প্রস্তাবিত কাঠামোর অংশ। গেজেট প্রকাশের পরই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া যাবে।
এখন তাই সরকারি চাকরিজীবীদের অপেক্ষা গেজেটের জন্য। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে আজই নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হবে, নাকি আরও অপেক্ষা করতে হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।