

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশের প্রযুক্তি গবেষণার ইতিহাসে যুক্ত হলো একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সোনিসিয়াম কোয়ান্টাম ল্যাব সফলভাবে এমন একটি কোয়ান্টাম উৎসভিত্তিক এনট্রপি ইঞ্জিন বাস্তবায়ন করেছে, যেখান থেকে বর্তমানে এন্টারপ্রাইস এপিআই -এর মাধ্যমে সরাসরি র্যান্ডম ডেটা সংগ্রহ করা যাচ্ছে।
এই প্রযুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- এটি কেবল একটি গবেষণাগারের ধারণা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নয়। সোনিসিয়াম এনট্রপি ইতোমধ্যে এপিআই -ভিত্তিক ব্যবহারের জন্য কার্যকর অবস্থায় রয়েছে, এবং এর Q135 বা ১৩৫-কিউবিট ভিত্তিক এনট্রপি আউটপুট বাস্তব এপিআই অনুরোধের মাধ্যমে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি সংগৃহীত ১০ হাজার এপিআই রিকয়েস্ট রিকোয়েস্ট/স্যাম্পলের ডেটা বিশ্লেষণ করে ৮ হাজার ৬৯৬টি বৈধ এনট্রপি স্যাম্পলের মধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী পরিসংখ্যানগত সামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। এই পরীক্ষায় মোট ২২ লাখেরও বেশি বিট বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফলাফল দেখিয়েছে যে ডেটাগুলোর মধ্যে ০ এবং ১-এর ভারসাম্য প্রায় নিখুঁত, কোনো ডুপ্লিকেট ২৫৬-বিট পেলোড পাওয়া যায়নি এবং একাধিক রান্ডমনেস টেস্ট -এ উল্লেখযোগ্য কোনো বিআইএএস শনাক্ত হয়নি।
এটি বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি সফটওয়্যার অর্জন নয়; বরং কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাস্তব বিশ্বের জন্য এনট্রপি ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরির সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
কোয়ান্টাম থেকে সরাসরি এপিআই কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
আমরা প্রতিদিন অসংখ্য ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহার করি। অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ই-কমার্স, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল পরিচয় এবং বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এমন র্যান্ডম সংখ্যা প্রয়োজন হয়, যেগুলো সহজে অনুমান করা যায় না।
সাধারণ কম্পিউটার অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে র্যান্ডম সংখ্যা তৈরি করে। এগুলোকে বলা হয় সিউডো-রান্ডম নম্বর।
কিন্তু কোয়ান্টাম জগতের প্রকৃতির মধ্যেই এমন কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে, যেখান থেকে অনিশ্চয়তাকে কাজে লাগিয়ে রান্ডমনেস বা এনট্রপি সংগ্রহ করা সম্ভব।
সোনিসিয়াম এনট্রপির মূল ধারণা হলো সেই কোয়ান্টাম উৎসকে ব্যবহার করে বাস্তব অ্যাপ্লিকেশনের জন্য ব্যবহারযোগ্য এনট্রপি তৈরি করা।


