

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মহাকাশে এক বছরেরও বেশি সময় ভেসে থাকার পর অবশেষে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি ফ্যালকন ৯ রকেটের একটি পরিত্যক্ত অংশ। গত ৫ আগস্ট ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে চাঁদের মাটিতে আঘাত হানে রকেটটির অংশটি। এর ফলে চাঁদের পৃষ্ঠে তৈরি হয়েছে নতুন একটি গর্ত। ইতোমধ্যে সংঘর্ষের আগে ও পরের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যারোস্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের দানুরি চন্দ্রযান ওই এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় ছবিগুলো ধারণ করে। ছবিতে সংঘর্ষের পর চাঁদের পৃষ্ঠে সৃষ্ট একটি গভীর গর্ত স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। চাঁদের জন্য এই ক্ষতি খুবই সামান্য হলেও, মহাকাশে ক্রমবর্ধমান বর্জ্য বা স্পেস ডেব্রিস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানীদের হিসাবে, প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কেজি ওজনের এবং ৩৯ ফুট লম্বা ফ্যালকন ৯-এর ওই অংশটি চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার সময় যে শক্তি তৈরি হয়, তা প্রায় ৩ টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমতুল্য। সংঘর্ষের ফলে চাঁদের মাটিতে আনুমানিক ২৭ মিটার প্রশস্ত ও ৫ মিটার গভীর একটি গর্ত সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংঘর্ষের সময় আশপাশের পাথর ও ধূলিকণা ছিটকে পড়ায় ওই এলাকার পৃষ্ঠও আগের তুলনায় কিছুটা অন্ধকার হয়ে গেছে। এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে নাসার লুনার রিকনসেন্স অরবিটারের তোলা উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি বিশ্লেষণের পর।
ঘটনাটি বিজ্ঞানীদের জন্য অবশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার সুযোগ তৈরি করেছে। প্রতিবছর অসংখ্য উল্কা চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত করলেও সেগুলোর আকার, ভর ও গঠন সম্পর্কে আগে থেকে নির্ভুল তথ্য জানা থাকে না। কিন্তু ফ্যালকন ৯-এর পরিত্যক্ত অংশটির ওজন, আকার ও উপাদান সম্পর্কে তথ্য থাকায় বিজ্ঞানীরা সংঘর্ষের প্রভাব তুলনামূলকভাবে নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবেন।
চাঁদের পৃষ্ঠে মহাকাশযানের পরিত্যক্ত অংশ আছড়ে পড়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২০০৬ সালে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার স্মার্ট-১ স্যাটেলাইট এবং ২০২২ সালে চীনের একটি মহাকাশযানের পরিত্যক্ত অংশ চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানে। এসব ঘটনাতেও চাঁদের মাটিতে নতুন গর্ত তৈরি হয়েছিল।
সূত্র: ডেইলি মেইল

