

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে শুধু টুথপেস্ট নয়, আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহার করা অনেক পরিচিত পণ্যেই থাকতে পারে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। প্রসাধনী, পোশাক, খাবারের প্যাকেজিং, প্লাস্টিকের বোতল, টি-ব্যাগসহ নানা উৎস থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক বলতে সাধারণত ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে বোঝানো হয়। আকারে খুব ছোট হওয়ায় এসব কণা সহজেই পরিবেশের বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান, যেমন ভারী ধাতু ও জীবাণু বহন করতে পারে। শরীরে প্রবেশের পর এগুলো বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে জমা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কোন কোন পণ্যে থাকতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিক?
গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন ব্যবহারের বেশ কিছু পণ্য থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসতে পারেন মানুষ। এর মধ্যে রয়েছে,
শরীরে কী প্রভাব ফেলতে পারে?
খাবার, পানি, বাতাস কিংবা প্রসাধনীর মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় মানুষের রক্ত, ফুসফুস, অন্ত্র, মস্তিষ্ক এমনকি নবজাতকের প্লাসেন্টাতেও এসব কণার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।
সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে—
হৃদ্রোগের আশঙ্কা: রক্তনালিতে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা জমে প্রদাহ বা রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়াতে পারে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা: অন্ত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হলে হজমের সমস্যা ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ফুসফুসের ক্ষতি: বাতাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা কণা দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসকষ্ট, কাশি বা ফুসফুসের সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব: প্লাস্টিকে থাকা কিছু রাসায়নিক, যেমন থ্যালেটস ও বিসফেনলজাতীয় উপাদান, শরীরের হরমোন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।
স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব: অতি ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিক মস্তিষ্কে পৌঁছে কোষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
কোষের ক্ষতির সম্ভাবনা: দীর্ঘদিন মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শে থাকলে কোষের ক্ষতি ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঝুঁকি কমানোর উপায়
পুরোপুরি মাইক্রোপ্লাস্টিক এড়িয়ে চলা কঠিন হলেও কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এর সংস্পর্শ কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পরিবেশবান্ধব বিকল্প বেছে নেওয়া এবং সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শ অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে মানবদেহে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
