বৃহস্পতিবার
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বজ্রপাতে মারা যাওয়া মানুষের লাশ চুরি কেন হয়? কারণ জানলে অবাক হবেন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে সামনে আসে আরেকটি উদ্বেগজনক অভিযোগ—বজ্রপাতে মারা যাওয়া মানুষের লাশ চুরি বা লাশ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। বিষয়টি শুনতে অস্বাভাবিক মনে হলেও এর পেছনে কাজ করে কুসংস্কার, গুজব এবং কিছু ক্ষেত্রে অপরাধচক্রের স্বার্থ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতে মৃত মানুষের শরীরে কোনো অলৌকিক শক্তি বা বিশেষ উপাদান থেকে যায়—এমন ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বজ্রপাত মূলত উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক স্রোত, যা শরীরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মারাত্মক ক্ষতি করে। মৃত্যুর পর শরীরে কোনো বিশেষ শক্তি সংরক্ষিত থাকে না।

তবে গ্রামাঞ্চলসহ কিছু এলাকায় প্রচলিত আছে নানা লোকবিশ্বাস। কোথাও মনে করা হয়, বজ্রপাতে মৃত মানুষের শরীরের অংশ বা ব্যবহৃত জিনিস তাবিজ, ঝাড়ফুঁক বা তথাকথিত কালোজাদুর কাজে ব্যবহার করা যায়। এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে অসাধু চক্র লাশ চুরি বা মরদেহের প্রতি অবমাননাকর আচরণে জড়াতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক সময় “লাশ চুরি” বলে যেসব খবর ছড়ায়, তার সবই সংগঠিত অপরাধ নয়। কিছু ক্ষেত্রে পারিবারিক বিরোধ, জমি-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব বা সামাজিক আতঙ্কের কারণেও গুজব তৈরি হয়। আবার কোথাও মরদেহ দ্রুত দাফন বা স্থানান্তরের ঘটনাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বজ্রপাতের মতো আকস্মিক মৃত্যু মানুষের মনে ভয় ও রহস্য তৈরি করে। সেই ভয় থেকেই জন্ম নেয় অলৌকিক ব্যাখ্যা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে পড়লে এসব বিশ্বাস আরও শক্তিশালী হয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বজ্রপাতে মৃত্যু হলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানো, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং গুজবে কান না দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে লাশ চুরি নিয়ে আতঙ্ক ও কুসংস্কার কমানো সম্ভব।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৃতদেহের প্রতি সম্মান রক্ষা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুজবের বদলে তথ্যভিত্তিক সচেতনতা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সাবেক প্রধান সোহেল মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইলেকট্রিক শকে মৃত্যু হওয়া দেহ এবং বজ্রপাতে মৃত্যু হওয়া দেহের মধ্যে কোনো মৌলিক পার্থক্য থাকে না।

বজ্রপাত সৃষ্টির জন্য সাধারণত তিনটি উপাদান প্রয়োজন হয়। বাতাসের আর্দ্রতা, অস্থিতিশীল বায়ু এবং ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ। আর্দ্রতা মূলত সমুদ্র থেকে আসে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মিশে মেঘ তৈরি করে।

বজ্রপাতের সময় বায়ুর তাপমাত্রা প্রায় ৩০ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে বাতাস দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে হঠাৎ প্রসারিত হয় এবং শক্তিশালী কম্পন বা শকওয়েভ তৈরি করে। এই শকওয়েভই আমরা বজ্রধ্বনি হিসেবে শুনি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন