

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত প্রবেশ না করেই দেশে ফিরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। জানা গেছে, কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে আগাম অবহিত করা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।
এ ঘটনার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পেস্টে তিনি জানান, আমরা গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দার সাথে দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মহোদয়ের প্রতি প্রদর্শিত অসৌজন্যমূলক ও অমর্যাদাকর আচরণের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
ফয়েজ তৈয়ব লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবী, কলামিস্ট, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তিনি পলিসি এন্ড স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও বহন করছেন।’
এ ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন কিংবা আকস্মিক বলে করার অবকাশ নেই জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও ভারতের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বাংলাদেশি নাগরিকদের হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও সাধারণ নাগরিক হিসেবে দুইবার ভারতীয় বিমানবন্দরে অনুরূপ হেনস্তার শিকার হয়েছি, যা এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত চরিত্রকেই প্রমাণ করে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘প্রিয় জাহেদ ভাই, আমরা আপনার পাশে আছি এবং আপনার সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সম্মান জানাই। দেশের মর্যাদাই সর্বোচ্চ বিবেচনা। এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ডাঃ জাহেদ দীর্ঘকাল ধরে ভারত-সমর্থিত কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবাদে শামিল ছিলেন এবং বিশেষভাবে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, এই হেনস্তার ঘটনা সেই প্রেক্ষাপটেই বিচার করা সমীচীন। প্রতীয়মান হয় যে এটি একটি উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত হেনস্তা।
বিষয়টি কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও প্রোটোকল লঙ্ঘনের শামিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আচরণ ভারতের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্রকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে উন্মোচিত করে দেয়। আওয়ামী স্বৈরতন্ত্র, বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রশ্নে ভারতের অবস্থান ইতোমধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের উপদেষ্টা পর্যায়ের একজন প্রতিনিধির প্রতি কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও প্রোটোকল না মানা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ভারত সরকার এই ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি নাগরিক ও কর্মকর্তাদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
