সোমবার
০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীর ক্ষতি হয়, কী বলছে চিকিৎসকরা 

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২০ পিএম আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
এনপিবি গ্রাফিক্স
expand
এনপিবি গ্রাফিক্স

চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণ ঘিরে বহু সংস্কৃতিতে নানা ধরনের বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে গ্রহণের সময় ঘরের বাইরে না যাওয়া, ধারালো বস্তু ব্যবহার না করা কিংবা খাবার না খাওয়ার মতো পরামর্শ অনেক পরিবারেই দেওয়া হয়। তবে এসব বিশ্বাসের পক্ষে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ রয়েছে কি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, চন্দ্রগ্রহণের সঙ্গে গর্ভাবস্থার কোনো শারীরিক ক্ষতির বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদ ঢেকে যাওয়ার এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনায় এমন কোনো বিকিরণ বা শক্তি উৎপন্ন হয় না, যা গর্ভবতী নারী বা গর্ভের শিশুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

উত্তরা হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগের লেকচারার ডা. আজিজা পারভীন বলেন, ‘চন্দ্রগ্রহণ একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা। মানুষের স্বাস্থ্য বা গর্ভাবস্থার ওপর এর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই এ নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার কারণ নেই। চন্দ্রগ্রহণ থেকে এমন কোনো ক্ষতিকর বিকিরণ নির্গত হয় না, যা গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। চন্দ্রগ্রহণের সঙ্গে জন্মগত ত্রুটি কিংবা গর্ভপাতের কোনো সম্পর্কও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।’

বিশ্বের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা এবং চিকিৎসা গবেষণায়ও চন্দ্রগ্রহণের সঙ্গে গর্ভপাত, জন্মগত ত্রুটি, অকাল প্রসব বা শিশুর শারীরিক সমস্যার কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে এ ধরনের ধারণাকে কুসংস্কার বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে গর্ভবতী কোনো নারী যদি গ্রহণকে কেন্দ্র করে মানসিক উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তাহলে পরিবারের সদস্যদের উচিত তাকে আশ্বস্ত করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

ডা. আজিজা পারভীন বলেন, ‘গর্ভাবস্থায় প্রকৃত ঝুঁকি হলো অপুষ্টি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, সংক্রমণ এবং স্বাস্থ্যসেবা না নেওয়া। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্য এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই নিরাপদ মাতৃত্বের মূল ভিত্তি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন