

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস বি (এইচবিভি) শনাক্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
তাদের মতে, সময়মতো পরীক্ষা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মা ও নবজাতক উভয়কেই নিরাপদ রাখা সম্ভব।
ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩.৫ শতাংশ গর্ভবতী নারী হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের বাহক। যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
এবিষয়ে উত্তরা হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনী এন্ড অবস বিভাগের লেকচারার ডা. আজিজা পারভীন বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা জরুরি। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা, নিয়মিত ফলো-আপ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে গর্ভবতী মা নিরাপদে সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো মা থেকে শিশুর মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ। এই সংক্রমণ প্রধানত প্রসবের সময় ঘটে। যেসব মায়ের এইচবিইএজি পজিটিভ এবং এইচবিভি ডিএনএ (ভাইরাল লোড) বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এছাড়া নবজাতক যদি জন্মের ১২–২৪ ঘণ্টার মধ্যে হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন ও এইচবিআইজি না পায়, তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।’
আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী, সব গর্ভবতী নারীর গর্ভাবস্থার শুরুতেই এইচবিএসএজি পরীক্ষা করা উচিত। কারণ অনেক সময় হেপাটাইটিস বি-এর কোনো লক্ষণ থাকে না। আগেভাগে রোগ শনাক্ত করা গেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং নবজাতকের সময়মতো হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন দিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব। যদি কোনো গর্ভবতী মায়ের হেপাটাইটিস বি পজিটিভ ধরা পড়ে, তাহলে অবশ্যই একজন লিভার বিশেষজ্ঞ -এর পরামর্শ নিতে হবে এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, চিকিৎসা ও ফলো-আপ সম্পন্ন করতে হবে।
গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস বি ধরা পড়া আতঙ্কের নয়, সচেতনতার বিষয়। সময়মতো পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং জন্মের পরপরই শিশুর যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মা ও শিশুকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।
