

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


‘বর্ন ইন ব্র্যাডফোর্ড’ নামক বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, রক্ত সম্পর্কিত বাবা-মায়ের কারণে সন্তানদের সিস্টিক ফাইব্রোসিস বা সিকেল সেল রোগের মতো মারাত্মক অবনতিমূলক জিনগত ব্যাধির ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
গ্রেগর মেন্ডেলের জিনতত্ত্ব অনুযায়ী, বাবা-মা উভয়েই একই ত্রুটিপূর্ণ জিন বহন করলে সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে ২৫%। সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় কাজিনদের সন্তানের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি দ্বিগুণ (৬%)।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কোনো জিনগত রোগ না থাকলেও কনসাংগুইনিটি বা রক্ত সম্পর্কের কারণে শিশুদের কথা ও ভাষাগত বিকাশে সমস্যা হতে পারে এবং তাদের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার হার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে যায়।
গবেষক অধ্যাপক স্যাম ওডি জানান, শুধু কাজিন বিয়েই নয়, একই ঘনিষ্ঠ সম্প্রদায়ের মধ্যে বিয়ের প্রথা বা ‘এন্ডোগ্যামি’র কারণেও এই জিনগত ঝুঁকি তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও আইনি বিতর্ক
এই স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সামাজিক ব্যবস্থার কারণে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নরওয়ে ও সুইডেন ইতিমধ্যেই কাজিনদের মধ্যে বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। নরওয়ের আইনপ্রণেতাদের মতে, এই প্রথার সাথে জোরপূর্বক বিয়ে এবং সম্মানজনিত সহিংসতার যোগসূত্র রয়েছে, যা নারীদের এক ধরণের সামাজিক ফাঁদে ফেলে দেয়।
যুক্তরাজ্যেও এটি নিষিদ্ধ করার জন্য একটি বেসরকারি বিল উত্থাপন করা হয়েছে, যদিও বর্তমান লেবার সরকার এখনই কোনো নিষেধাজ্ঞা না এনে ‘জেনেটিক কাউন্সেলিং’ ও শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে।
একসময় রানি ভিক্টোরিয়া কিংবা বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের আমলেও এই প্রথা ব্রিটিশ অভিজাত শ্রেণিতে প্রচলিত ছিল। তবে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে এই হার অনেক কমে এসেছে। ব্র্যাডফোর্ডে ২০০০-এর দশকের শেষের দিকে কাজিন বিয়ের হার ৩৯% থাকলেও বর্তমানে তা কমে ২৭%-এ নেমে এসেছে।
কঠোর আইন প্রণয়ন করে নিষেধাজ্ঞা জারির চেয়ে শিক্ষার মাধ্যমে জেনেটিক সচেতনতা বৃদ্ধিই এই প্রথা ভাঙার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।
