

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পানিফল শুধু দেখতে আকর্ষণীয় নয়, পুষ্টিগুণেও বেশ সমৃদ্ধ। পানিতে জন্মানো এই জলজ সবজি কাঁচা কিংবা রান্না—দুইভাবেই খাওয়া যায়। অনেকের কাছে এটি ‘শিঙাড়া ফল’ নামেও পরিচিত। কম ক্যালরি, খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকায় পরিমিত পরিমাণে পানিফল সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।
পানিফল মূলত এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাওয়া যায়। বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ফিলিপাইন ও জাপানসহ আরও কিছু অঞ্চলে এর চাষ ও ব্যবহার রয়েছে। পানিফলের ভেতরের সাদা অংশ খেতে খাস্তা এবং হালকা মিষ্টি স্বাদের।
পানিফলে তুলনামূলক কম ক্যালরি এবং ভালো পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। এতে পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, রিবোফ্লাভিন, ম্যাঙ্গানিজ ও কপারের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানও পাওয়া যায়।
প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা পানিফলে আনুমানিক রয়েছে-
পানিফলে থাকা পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ স্বাস্থ্যকর রক্তচাপ বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে পরিমিত পানিফল তাই উপকারী হতে পারে।
পানিফলে থাকা খাদ্যআঁশ হজমপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি মল নরম রাখতে এবং নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করতে পারে। ফলে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশ নিশ্চিত করতে পানিফল রাখা যেতে পারে।
কম চর্বি ও খাদ্যআঁশের উপস্থিতির কারণে পানিফল ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা যেতে পারে। খাদ্যআঁশ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখায় অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
পানিফলে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা হিসেবে পানিফলকে বিবেচনা করা উচিত নয়।
পানিফলের পটাশিয়াম শরীরের পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে শরীরের তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতেও পটাশিয়াম প্রয়োজন।
পানিফলে পটাশিয়ামের পাশাপাশি ম্যাঙ্গানিজ ও কপারের মতো খনিজ রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় কার্যক্রম ও কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।
পানিফল ভালোভাবে পরিষ্কার করে কাঁচা খাওয়া যায়। আবার এটি বিভিন্নভাবে রান্না করেও খাওয়া সম্ভব। তবে জলজ পরিবেশে জন্মানোর কারণে কাঁচা খাওয়ার আগে পানিফল ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করা জরুরি। অপরিষ্কার বা দূষিত পানিতে জন্মানো পানিফল থেকে জীবাণু বা পরজীবীর সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে।
পানিফলে খাদ্যআঁশ, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকায় এটি সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তবে কোনো একটি খাবার থেকেই সব ধরনের পুষ্টি পাওয়া সম্ভব নয়। তাই পানিফলের পাশাপাশি শাকসবজি, ফল, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়া জরুরি।
কিডনি রোগ বা পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের পানিফল খাওয়ার পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



